বিশেষ প্রতিনিধি


হবহু পত্রিকার পাতায় নিউজটি পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জীবননগর আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোলাম মোর্তুজা। এ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আফসার আলী মিয়া। এরপর সভাপতির দায়িত্ব পান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম মোশাররফ হোসেন মিয়া। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলাম মোর্তুজা সভাপতি নির্বাচিত হন।

গোলাম মোর্তুজা জাসদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকাকালীন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ৪ বার বাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অবশেষে বিপ্লবী সমাজতন্ত্রের মোহ কেটে গেলে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ও অনুপ্রাণীত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সর্বশেষ জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মসলেম উদ্দিন ও হাসাদহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জুম্মাত মন্ডল বলেন, গোলাম মর্তুজা একাধারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কেউ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সরকারী খাল-বিল ও হাট-ঘাট দখলের অভিযোগ তুলতে পারেনি। আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন সরকারে থাকলেও তার দুই উচ্চ শিক্ষিত সন্তানকে
সরকারী চাকুরি পর্যন্ত দিতে পারেননি। বরং তিনি রাজনীতি করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাপ-দাদার ১৪ বিঘা জমি বিক্রি করেছেন। এর চেয়ে তার জন্য আর কি ক্লিন ইমেজ দরকার?

এসব কারণেই গোলাম মোর্তুজা দীর্ঘ ১৮ বছর পর আজ জীবননগরে যে আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তাতে তিনি সভাপতি পদে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এখন পর্যন্ত এপদে কারো নাম শোনা যায়নি। তবে গুঞ্জনে রয়েছে আরো প্রার্থীর নাম। তাই ঘুরে ফিরে সম্মেলনে এই প্রশ্নটিই বার বার উঠছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তিনিই কি আবারো থাকবেন সভাপতি পদে? নাকি কি নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে কোন চমক উপহার দেবে আওয়ামী লীগ?

তবে গোলাম মর্তুজা বলেন, নেতাকর্মিরা চাইলে আমি আবারও জীবননগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হতে চাই। উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের নির্দেশ মোতাবেক সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দলীয় নিয়ম-কানুন মেনেই কমিটি গঠন করা হবে।

জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সর্বশেষ ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে উথলী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে সাধারণ সম্পাদক উথলী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন মারা গেলে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর আলী আহাম্মদ। ২০১৮ সালে তিনি মারা গেলে দলের সাধারণ সম্পাদকের হাল ধরেন উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম। তিনি গত ৫ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলকে সামলাচ্ছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের নাম প্রচারণায় রয়েছে। এরা হচ্ছেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিগত উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েও নির্বাচনের আগে নিজেকে প্রার্থী থেকে প্রত্যাহার করে মাত্র ৭৫ ভোট পেয়ে নিদারুণ পরাজয় মেনে নেওয়া প্রার্থী আব্দুল লতিফ অমল। এছাড়া রয়েছেন, কেডিকে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক খায়রুল বাসার শিপলু। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পেতে আরো যারা ইচ্ছুক তারা হচ্ছেন, মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন সুরোদ্দীন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম ঈশা।

আজ সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে পৌর শহরের ইক্ষু ক্রয় কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক প্রকার উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। এখানে কোনো দলীয় কোন্দল নেই। সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে জীবননগর আওয়ামী লীগ আরও এগিয়ে যাবে। আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছি।

জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম জানান, সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

খায়রুল বাসার শিপলু বলেন, নেতাকর্মীরা চাইলে সাধারণ সম্পাদক হতে আমার কোনো আপত্তি নেই। জনগণের ভালবাসাই আমার মূল পুঁজি। তারা আমাকে যেভাবে মুল্যায়ন করতে চায়, সে ভাবেই গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে শেষ পর্যন্ত যদিও নমনীয় রয়েছে আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে বিএনপিহীন নির্বাচনী মাঠে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়াতেই বিদ্রোহীদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ‘উৎসাহ’ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সে সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে যদি নৌকার প্রার্থী না জিতে বিদ্রোহী প্রার্থী জিতে তাতেও আওয়ামী লীগেরই জয় হবে। কারণ তিনিও তো আওয়ামী লীগেরই।