রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা: নওগাঁর আত্রাইয়ে ফসলের মাঠগুলো এখন সোনালী-সবুজ রঙে ঝলমল করছে। হালকা বাতাসের দোলায় নতুন গমের শীষ উপজেলার কৃষকের মনে রঙিন স্বপ্ন বুনছে। মাঠগুলো গমের সোনালী শীষে ভরে গেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর কিছুদিন পরে শীষ পেঁকে হলুদ হবে। তখন গম কাটা শুরু হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় ২৫৫ হেক্টর জমিতে গম চাষাবাদ করা হয়েছিল। এ বছর প্রায় ২৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের গম চাষী আলেম উদ্দিন বলেন, বিগত দিনে গমের জমি কমলেও গত বছর থেকে বেশি জমিতে গম চাষ হচ্ছে। আমি এ বছর ১৫ শতক জমিতে গম চাষ করেছি। গমের গাছের চেহারা মোটামুটি ভালো দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া যদি অনুকুলে থাকে এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ না হয় তাহলে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বমিরাপুর গ্রামের কৃষক ইয়ানুছ বলেন, ধানের চেয়ে গম চাষে তুলনামূলকভাবে উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন ভালো হওয়ায় গমের আবাদ বেড়েছে। প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ মণ করে গম পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছি।

মির্জাপুর গ্রামের একজন গম চাষী বলেন, গত বছর গম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। এবার কয়েক বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। এবারো আবহাওয়া ভালো থাকায় ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় বেশ ভালো ফলন হবে মনে করছি। বিঘায় ১২ থেকে ১৫ মণ করে গম পাবো বলে আশা রাখছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে.এম. কাওছার বলেন, এ বছর ২৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লড়্গ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে গম চাষ করা হয়েছে। সিংহভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের গম চাষ হচ্ছে। এ গমে দুই থেকে চারবার সেচ দিতে হয়। সার কীটনাশকেরও পরিমাণও অনেক কম। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।