রুহুল আমিন, আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের শেষে বসন্তের আগমনে আম্রকাননে গাছে গাছে মুকুলের ব্যাপক সমারোহ দেখা যাচ্ছে। চারিদিকে আম্র মুকুলের মিষ্টি গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমের মুকুলের মিষ্টি গন্ধ ও মৌমাছির গুঞ্জন সবাইকে মাতোয়ারা করে তুলেছে। বর্তমানে নওগাঁ জেলা আমের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। জেলার আত্রাই উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু আমের চাষ।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, মুকুলের ভারে আম গাছের ডালপালা নুয়ে পড়েছে। ছোট বড় গাছগুলোতে বেশি বেশি আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। সোনালী বর্ণের আমের মুকুল সকালের সূর্যের আলোয় যেন অপরূপ শোভা বর্ধন করছে এবং থেকে থেকে রঙ ছড়াচ্ছে। আমের মুকুলের ছড়া (থোকা) দেখে বাগান মালিকেরা আনন্দ করছে। অনেকে আবার গাছের মুকুল রড়্গার জন্য কৃষি অফিসে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। আবার কেহ কেহ গাছের পরিচর্যা করতে মনোযোগি হয়ে উঠেছেন।

আমের মুকুল আসছে তাই এখন মৌমাছিদের এতো গুঞ্জন আম্র মুকুলের সুমিষ্ট ঘ্রাণ যেন মৌমাছিদের কাছে টানছে। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। অনেকের ধারণা, আমের মুকুল যে পরিমানে এসেছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে।

কয়েকজন বাগান মালিক জানান, বাগানে চাষ হওয়া উন্নতজাতের আমের মধ্যে শোভা পাচ্ছে আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষরিসাপাত অন্যতম। ইতিমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে. এম কাউছার বলেন, উপজেলায় আমের বাগান দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও বাণিজ্যিক ভাবে আমের বাগান তৈরি হচ্ছে। গাছে গাছে আমের মুকুল আসার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কি কি পরিচর্যা করতে হবে তা কৃষি অফিস সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে।