‘আপনারা অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় বসে আছেন, দখল করে বসে আছেন। কী তফাত আপনাদের পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে, আমাকে বুঝাবেন একটু? আমি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে আপনাদের কোনো তফাত দেখি না। তারাও জোর করে বন্দুক দিয়ে মানুষকে মেরে ক্ষমতা দখল করে বসেছিলো। আপনারা আজকে সেই একই কায়দায় মানুষকে হত্যা করে, নির্যাতন করে, জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন। সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, আমরা একটা কঠিন সময় পার হচ্ছি, একটা সংকট মুহূর্ত পার হচ্ছি। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে অন্যায় মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অসুস্থ। এই দু-তিনদিন আগে তাঁর সাজা আরো ৬ মাস স্থগিত করছে বলছে। কোথায় সাজা স্থগিত করছে?

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা তাঁকে (খালেদা জিয়া) গৃহবন্দি করে রেখেছেন। চিকিৎসার জন্য তিনি বাইরে যেতে চেয়েছেন, সেটাও আপনারা দেন নাই। আপনারা তাকে বাংলাদেশে রেখেই চিকিৎসা করতে বলছেন। যেখানে তাঁর চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিনে দিনে।

তিনি বলেন, আমাদের যে সমস্ত নেতাকর্মী বন্দি আছেন তাদের সকলের মুক্তি দিতে হবে। আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৩৫ লাখ মামলা আছে সেই প্রত্যাহার করতে হবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।

তিনি বলেন, দয়া করে আপনাদের একদম অতীতের কথা চিন্তা যখন আপনারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন সেই কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগকে যদি বাঁচাতে চান তাহলে অবিলম্বে যা আপনারা করেছেন তার জন্য মাফ চেয়ে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। পদত্যাগ করেন, নির্বাচন দিন, নতুন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনে নতুন সরকার আসুক, নতুন পার্লামেন্ট আসুক।

কৃষকদের দুরাবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের কৃষকদের সংগঠিত করতে হবে। তাদের অধিকার আদায় করতে কৃষক দলকে সক্রিয় হতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনি ৫ হাজার টাকার কৃষক ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দিয়েছিলেন। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই কৃষকদের ঋণ সহজ করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রণোদনা দিয়েছে বিভিন্ন সেক্টারে, কৃষি ক্ষেত্রেও দিয়েছে কিন্তু কৃষি ক্ষেত্রের টাকাগুলো তাদের নেতারা (আওয়ামী লীগ) পকেটে ভরে নিয়েছে। আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার কথা ছিলো সেটাও তারা পকেটে ভরে নিয়েছে। এই সরকার লুটেরা সরকারে পরিণত হয়েছে।

ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ এই দেশটাকে পৈত্রিক সম্পত্তি করে নিয়েছে। এই যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তিনি খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। চমৎকার চমৎকার আসনে বসে, ফিরোজা রঙের একটা আসনে বসে তিনি প্রতিদিন বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকেন, প্রতিদিন তিনি বিএনপিকে ধমক দেন, শিক্ষা দেন। আরে আপনি আগে নিজের ঘরকে শিক্ষা দেন।

কৃষক দলের আহবায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে ও সদস্য এসকে সাদীর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষক দলের সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, নাজিমউদ্দিন, আফতাব উদ্দিন আহমেদ মন্ডল, জামালউদ্দিন মিলন, এমএ হালিম, নাসির হায়দার, মাইনুল ইসলাম, জিয়াউল হায়দার পলাশ, লুতফুর রহমান, মাহমুদুল হক সানু, শরীফুল ইসলাম মোল্লা, মহসিন আহমেদ তুষার, আনোয়ারুল হক, এনায়েতুল্লাহ খোকন, রবিউল হাসান পলাশ ও সালাহউদ্দিন খান মিলকী।