ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ভালুকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমর্থকের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে ময়মনসিংহ-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চুর নেতৃত্বে স্থানীয় পাইলট স্কুল মোড় থেকে একটি মিছিল বের হয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছাানোর আগে সহিংসতা এড়াতে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের বাধা অতিক্রম করে উত্তেজিত বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বাসট্যান্ড এলাকায় এসে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেয়। একই এলাকায় মহাসড়কের পূর্ব পাশে আওয়ামী লীগসহ তাদের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে আগে থেকেই তিন শতাধিক নেতাকর্মীর অবস্থান ছিল। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভালুকা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পার্কিং করা ২৫/৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাধে।

এ সময় ভালুকা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মোহনা টিভির ভালুকা প্রতিনিধি এস.এম. শাহজাহান সেলিম, ভালুকা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইত্তেফাক প্রতিনিধি কামরুজ্জামান মানিক, ভালুকা মডেল থানার ৪ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়াশেলসহ ৬২রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।

স্থানীয়রা জানান, মোহনা টিভির ভালুকা প্রতিনিধি এস.এম. শাহজাহান সেলিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে।

ভালুকা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়াশেলসহ ৬২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়নের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।