সাভার-আশুলিয়া প্রতিনিধিঃ সাভারের আশুলিয়ায় ইয়ারপুর ইউনিয়নের সরকার মার্কেট এলাকার রুপায়ন স্বপ্ন নিবাস আবাসনের একটি প্রাইভেট কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের তার দুই শিক্ষক বন্ধু মোতালেব ও রবিউল ক্লাসরুমে ঢেকে নিয়ে হত্যার পর ৬ টুকরো করে স্কুলের উঠানে পুতে রাখে ৫ টুকরা । এঘটনায় নিহতের বন্ধু মোতালেব ও রবিউলসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। স্কুল থেকে লাশের ৫ টি টুকরা উদ্ধার করেছে র‌্যাব আর মাথা আশকোনার একটি ডোবা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এর আগে গত ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার) আশুলিয়ার নরসিংহপুর সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকেই নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ।

সোমবার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার রুপায়ন স্বপ্ন নিবাস আবাসনের সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আঙ্গিনা থেকে পুতে রাখা লাশের ৫ টুকরা উদ্ধার করে র‌্যাব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই (মঙ্গলবার) আশুলিয়ার জামগড়া সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকেই নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। এর পর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৭ দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে অবশেষে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ। পরে ৯ আগস্ট ছায়া তদন্ত করে তিনজনকে গ্রেফতার করে লাশের লোকেশন শনাক্ত করে র‌্যাব।

পরে বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে অভিযান পরিচালনা করে লাশের ৫ টুকরো উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ মিন্টু চন্দ্র বর্মন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়াইপাড়া গ্রামের শর্ত বর্মনের ছেলে। তিনি অনেক মেধাবী ও সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।

নিহতের ভাই দীপক চন্দ্র বর্মন জানান, তার ভাই মিন্টু চন্দ্র বর্মণ দুই বন্ধু মিলে প্রায় দুই বছর আগে সাভারের আশুলিয়ায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। যার নাম দেন সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ। যার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন মিন্টু বর্মণ। কিন্তু হঠাৎ ভাই উধাও হয়ে যায়। আজ খবর শুনি ভাইয়ের বন্ধুরাই তাকে হত্যা করেছে। আমি উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া উইয়ং এর কমান্ডার মঈন খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রথমে ৭ জুলাই মিন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৩ জুলাই স্কুলটিতে কোচিং পরবর্তী সময়ে ১০৬ নম্বরে রুমে মিন্টুকে ডেকে নিয়ে যায় বাদশা ও মোতালেব। এসময় মিন্টুর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে বাদশা আঘাত করে। পরে ৬ টুকরো করে মাথা রাজধানীর আশকোনার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। বাকি ৫ টুকরো স্কুলের উঠানেই পুতে রাখে তারা।

তিনি আরও বলেন, মিন্টু বর্মণের সুনাম ও খুব ভাল শিক্ষক হওয়ায় পেশাগত হিংসা শুরু করেন তার পার্টনাররা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ নিয়েও তাদের মধ্যে মনমালিন্য ছিল। এর জের ধরেই তাকে হত্যা করে তারা। এর পর থেকেই রবিউল পলাতক ছিল। গত মধ্যরাতে রবিউলকে আব্দুল্লাপুর থেকে, তার ভাগিনা বাদশাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে আর মোতালেব কে আশকোনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রবিউলের দেওয়া তথ্যমতে অনুযায়ী স্কুলের উঠান থেকে মিন্টুর শরীরের ৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়