সাভার প্রতিনিধি: সাভারের আশুলিয়ায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগের ফলে বিষক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছে মরে ভেসে উঠেছে। মালিকদের অভিযোগ কেউ রাতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করায় মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার গাজিরচটের দরগার পাড়া এলাকার রাশেদ ভূইয়া ও শাহেদ মীরের লিজের পুকুরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

দের বিঘা এই পুকুরটিতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়েছিলো ছয় মাস আগে। এর মধ্যে রুই, কাতল, সিলভার কাপ, গ্রাস কাপ, কালিবাউস ও তেলাপুয়া মাছ রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। এই পুকুরটি রাশেদ ভূইয়া ও শাহেদ মীর দুইজনে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন।

রাশেদ ভূইয়া বলেন, আর কিছু দিন গেলেই মাছগুলো বিক্রি করতে পারতাম। বিক্রির মত একটি সাইজে চলে আসচ্ছিলো। পানিটা একটু শুকানো ধরলেই মাছগুলো বাজারে তুলতাম। আমাদের এই পুকুরে প্রতিদিন খাবার দেওয়া হচ্ছে, পানি টেস্ট করা হচ্ছে, অক্সিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। কালও আমি মিটার দিয়ে এমনিয়া টেস্ট করেছি। আজ সকাল বেলা থেকেই আমার মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে। আমি এসে দেখি মাছ সব ভেসে উঠছে। পানির উপর বিষের কিছু নমুনাও পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, কেউ আমার এমন শত্রুতা করছে। কিছু মাছ পানির নিচে ডুবন্ত অবস্থায় আছে যেগুলো একটু পরপর ভেসে উঠছে। কিছুদিন আগে জলিল ও তার ভাই একটি বিচারের জন্য আমার কাছে এসেছিলো। তাদের বিচার আমি করি নাই দেখে তারা এমন করতে পারে বলে আমার সন্দেহ।

মাছগুলোর আরেক মালিক শাহেদ মীর বাংলানিউজকে বলেন, কাল দুপুরে দেখলাম মানুষ গোসল করছে পুকুরে পানি পরিষ্কার। কিন্তু আজ সকালেই দেখি পানি কালো কালো হয়ে যাচ্ছে। আর আমার মাছগুলো সব মরে ভেসে উঠছে। আমি বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করবো। আমরা থানায় যাচ্ছি।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলার সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সরকার ও সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এম. এম. প্রিয়াংকা ফেরদৌসের মুঠোফোন বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। এমনকি ভুক্তভোগী রাশেদ ভূইয়া তাদেরকে বিষয়টি জনানোর চেষ্টা করলেও জানাতে পারেনি।