খোরশেদ আলম, সাভার প্রতিনিধি: আশুলিয়ায় ৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৯ কিশোর টানা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে ৪০ দিন আদায় করাই উপহার হিসেবে পেয়ছে নয়টি বাই সাইকেল।

এসময় নামাজে অংশগ্রহণকারী আরও ১৭ জন কিশোরকে একটি করে জায়নামাজ ও টুপি দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি ৮০ জন কিশোরকে একটি করে টুপি উপহার দেওয়া হয়। এবং সবার জন্য এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
মজিবুর রহমান শাহেব বলেন, আজ শুক্রবার মসজিদে এক-দেড় হাজার মুসল্লী হয়েছিল সবাইকে খোরমা-খেজুর দিয়েছি কিছু অসহায় দরিদ্র বাচ্চারা নামাজ পড়তে আসছিল তাদেরকে
বিরানির প্যাকেট দিয়েছি তারা অনেক খুশি মনে বরণ করে নিয়েছে এই খাদ্যগুণ।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জুম্মার নামাজ শেষে আশুলিয়ার ঘোষবাগ মাদবর বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এ উপহার কিশোরদের হাতে প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, ৪০ দিন আগে মসজিদ কিমিটির সভাপতি মোঃ মুজিবুর রহমান (শাহেদ) ও ইমাম ফরিদুজ্জামান মিলে একদিন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করে। যেখানে অংশগ্রহণ করে মোট ৮০ জন কিশোর। এর মধ্যে প্রথম স্থান হওয়া ৯ জন ৯টি সাইকেল ও দ্বিতীয় স্থান হওয়া ১৭ জনসহ বাকিদে নানা উপহার প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে মাদবর বাড়ি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের নেতা মুজিবুর রহমান শাহেদ বলেন, হাটাৎ একদিন ইমামের পরামর্শে আমরা একটি উদ্যোগ নিলাম। যেখানে কিশোর বয়সী ছেলে পেলেদের নামাজ পড়তে আগ্রহী করার জন্য উপহার প্রদান করা হবে। পরে ইমাম সাহেব ও মোয়াজ্জেম খলিলুরের তত্ত্বাবধানে আমার এলাকার প্রায় ৮০ জন কিশোর এই ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করে৷

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে চিন্তা করেছিলাম একজনের টিকবে কিনা সন্দেহ। কিন্ত না সেই সন্দেহকে উড়িয়ে দিয়ে নয়জন কিশোর সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেছে। আমরা প্রথমে চেয়ছিলাম প্রথমে একজনকে লটারির মাধ্যমে সাইকেল পুরষ্কার দেবো। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম এভাবে দিলে কিশোর ছেলেদের মন ভেঙে যাবে। তাই নয়জনকেই নয়টি সাইকেল ও বাকিদের টুপি-জায়নামাজ দেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় হুমায়ুন কবির ভাইয়ের উদ্যোগে তাদের একবেলা করে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভেবেছি এই বয়সের মধ্যে যে কিশোররা রয়েছে যদি নামাজের মাধ্যমে ব্যস্ততা ও ইসলামের দিকে আনা যায় তাহলে তারা কোনো পাপ কাজ ও অন্যায় করতে পারবে না। আমি চিন্তা করেছি এই ৮০ জনকে যদি ৪০ দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াতে পারি তাহলে তাদের নামাজ পড়ার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে। আর আশেপাশের মানুষের ভেতর নামাজের আগ্রহ বাড়বে। এলাকায় অন্যয় অপরাধ কমে যাবে। এই থেকেই আরকি উদ্যোগটি নেওয়া। আমি আরও ঘোষণা দিয়েছি আগামীতে মধ্য বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে।