ডলি খাতুন (৫০) নামে এক নারী এসেছিলেন গ্রামের বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্টের বিচার নিয়ে। কর্মরত নারী পুলিশ সদস্য মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তার কখা। সব শুনে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ নেন। বিষয়টি জানানো হয় থানার ওসিকে। পুলিশের একজন এসআইকে পাঠিয়ে ডাকা হয় অভিযুক্তদের। মেলে সমাধান। মুচলেকা দিয়ে পার পান তারা। পুলিশের এমন তড়িৎ পদক্ষেপে খুশি ওই নারী। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের বখাটেরা তাকে উত্ত্যক্ত করে। মাতব্বরদের কাছে বিচার দিয়েও সমাধান মেলেনি। নিরুপায় হয়ে থানায় এসেছিলাম। এমন সেবা পাব কখনও ভাবতে পারিনি। এটি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশের নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্প সার্ভিস ডেস্কের সেবার গল্প। পুলিশের এই সেবায় ক্রমেই আস্থা বাড়ছে মানুষের ।


ওই ডেস্কে কর্তব্যরত নারী পুলিশ সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তাদের এই সেবার প্রতি ক্রমেই মানুষের আস্থা বাড়ছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। তাৎক্ষণিক তাদের সমস্যার সমাধান করা হয়।
এই হেল্প ডেস্কের দায়িত্বে থাকা এ এস আই জেসমিন আক্তার জানান, এখানে সামাজিক বিরোধ. মারামারি, নারীর প্রতি সহিংসতা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি অবিচার ও জমিজমাসহ নানা বিষয়ে সেবা দেওয়া হয়। সেবা পেতে আসা ভুক্তভোগীরা মন খুলে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন। সমাধানও করা হয় দ্রæত। একজন এস আই, একজন এ এস আইসহ আরও দুইজন নারী পুলিশ সদস্য এই হেল্প ডেস্কে সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সহজে আইনি সেবা দিতে দেশের প্রতিটি থানায় এই হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালের ২৮মার্চ হরিণাকুণ্ডু থানার এই হেল্প ডেস্কটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত এখানে ৪০৬টি অভিযোগ এসেছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩৯৪টির। বাকি ১২টি চলতি মাসের। সেগুলোও সমাধানের পথে।
উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের রোমেছা বেগম (৬০) নামে আরও এক নারীর সাথে কথা হয় এই হেল্প ডেস্কে। তিনি জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাবশালীরা তাকে মারধর করেছে। শুনেছি এখানে আসলে দ্রুত বিচার পাওয়া যায়,তাই এসেছি। তার কথা শুনে কর্তব্যরত নারী পুলিশ সদস্য নিজেই লেখেন অভিযোগ। সেটি দেওয়া হয় একজন অফিসারকে। তিনি দ্রুত রওনা দেন ঘটনাস্থলে। ব্যবস্থা নেওয়া হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। আর ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় হাসপতালে। দিনশেষে প্রতিকার পেয়ে খুশি বলে এই প্রতিনিধিকে জানান ওই নারী।
ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, এসব অসহায়দের দ্রুত পুলিশি সেবা দিতে এই হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। এই ডেস্কের মাধ্যমে ভুক্তভোগী মানুষ দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। এটি মানবিক পুলিশের অন্যতম সেবা কার্যক্রম।