ফরিদ আহম্মেদ, সরিষাবাড়ি (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইভটিজিং এ বাঁধা প্রদান করায় বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে বাবাকে মারধরের মাধ্যমে রক্তাক্ত করেছে একদল দূর্বিত্ত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চকপাড়া তে-মাথা মোড়ে এমন একটি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের মুনারপাড়া গ্রামের স্থায়ীভাবে বসবাসরত উৎসবের বখাটে ছেলে সজীব (১৮) দক্ষিণ কুমারিয়াবাড়ী গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরেই উত্যক্ত করে আসছিলো। মূলত মুনারপাড়া গ্রামে নানী বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়ার সূত্র ধরে সজীবের চোখে পড়ে মেয়েটি। চোখে পড়ার পর থেকেই সে (সজীব) মেয়েটিকে নানাভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। যার কারণে মেয়েটি নানা বাড়ী বেড়াতে আসা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এতেও বখাটে সজীব দমে না গিয়ে মেয়েটির বাড়ীতে গিয়ে উত্যক্ত করলে এলাকাবাসী তাকে (সজীব) আটক করে। এলাকাবাসী এবং পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর থেকে আব্দুর রাজ্জাক সজীবের ভয়ে শ্বশুর বাড়ীতে আসা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু শ্বশুরে অনুরোধে এবারের ঈদে বেড়াতে আসে ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক সহ তার পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হলে ঐরাতেই সজীব সহ কিছু দূর্বৃত্ত পার্শ্ববর্তী রাজ্জাকের শ্বশুরালয় বসের উদ্দিনের বাড়ী ঘেড়াও করে নানাধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অতঃপর এলাকাবাসী সোচ্চার হলে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু পরেরদিন শুক্রবার সজীবের লোকজন আব্দুর রাজ্জাককে বাড়ীতে পৌঁছানোর কথা বলে বাড়ী থেকে বের করে নিয়ে আসে এবং কিছুদূর আনার পর চকপাড়া তে-মাথা মোড়ে রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরে এলাকাবাসী এবং তার (রাজ্জাক) আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭.২৫ মিনিটে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী রাজ্জাকের পিতা জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ এই বখাটে সজীব দীর্ঘদিন ধরেই আমার নাত্নীকে উত্যক্ত করে আসছিলো, এলাকাবাসীর হাতে ছেলেটি উত্যক্ত করার সময় আটকও হয়েছিলো , শামস চেয়ারম্যানকেও বিষয়টি জানাইছি। কিন্তু তারা আমার সন্তানকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলা চালায়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি’।