নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
অনেকদিন যাবত বাংলাদেশ দলকে পারফরমেন্স দিয়ে যাচ্ছেন তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার বিষয়ে দেশের মানুষের একটি দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে সাকিব আল হাসান ইস্যুতে জল ঘোলা কম হয়নি। সাকিব আল হাসান আর আলোচনা এ দুটি ব্যাপার যেন এক সুতোয় গাঁথা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবেন না বলে নানা নাটকের জন্ম দিয়েছিলেন সাকিব। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ছাড়া বাংলাদেশ দলও এরই মধ্যে চলে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। কিন্তু, পুরো দল দেশ ছাড়ার পর নাটকে নতুন মোড় নিল। নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও যাচ্ছেন তিনি। আগামীকাল রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ঢাকা ছাড়বেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এখন সাকিবের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, এই নাটকের দরকার ছিল কি?

সাকিবের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে নাটক কম হয়নি। মাস দুই আগে থেকেই আইপিএলে দল পাওয়ার আশায় সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি চেয়েছিলেন। পরে যখন আইপিএলের কোনো দলই তাকে নিল না, তখন নাকি তিনি বিসিবি সভাপতির কাছে আফ্রিকা সফরে দুই ফরম্যাটেই খেলার স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু গত ৬ মার্চ ফের দৃশ্যপট বদলে যায়। বিজ্ঞাপনী কাজে দুবাই যাওয়ার আগে সাকিব বলে যান, তিনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় সফরে যাবেন না। এতে বেজায় চটে যান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হোয়াই? কিভাবে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়? ধরেন ওকে আইপিএলে নেওয়া হলো, তখন কি ও নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলত?’ এরপর সাকিবকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ছুটি দেওয়া হয়। তার এসব স্বেচ্ছাচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন এবং প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সাকিবের এই আচরণ দেশের মানুষের মন ভেঙে দিচ্ছে। যখন সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে চাইলো এবং তাকে রেখেই দল ঘোষণা করা হলো তখন মানুষের মনে একটি স্বাস্তি দেখা দিয়েছিল। মানুষ ভাবছিল সাকিব এবার দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। কিন্তু হঠাৎ সাকিবের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত মানুষকে ব্যথিত করেছিল। যদিও সাকিব আবার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার তারপরও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে স্বস্তি নেই। তাদের মনে একটিই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসছে যে, কেনো সাকিব এই নাটকের জন্ম দিলেন। কেনো মানুষের ব্যথীত করলেন? সাকিব নিজের দাম বাড়ানোর জন্য এগুলো করছে?

বাংলাদেশের হয়ে সবাই ক্রিকেট খেলে না। মাঠে যে ১১জন খেলেন তারাই সারা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। সারা দেশের মানুষের হয়ে তারাই খেলেন। তাদের এই ধরনের আচরণ দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনে না। সাকিব যে কাজগুলো গত কয়েকদিনে করেছেন এতে করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিপদে পড়েছে। অর্থাৎ পুরো দেশটাই বিপদে পড়েছে। যদি সাকিব দলে না থেকে বাংলাদেশ খারাপ কোনো ফল করতো তখন দেশের মানুষ সাকিবকেই দুষতো। ফলে সাকিবের মতো সব সিনিয়র ক্রিকেটারের উচিৎ দেশের কথা ভেবে অন্তত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অনেকবার ভাবা। তাহলেই দেশের ক্রিকেট অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাবে এবং একটা ভালো অবস্থানে যাবে। এ বিষয়ে দেশের ক্রিকেটারদের বিশেষ করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সচেতন হওয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।