নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েকদিন আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তরুণদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করে ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত হন।

নির্বাচন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এই ভিডিওতে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে তরুণদের আহবান জানিয়েছেন, আগামী ত্রিশ তারিখ যার যার কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য। এই ভিডিওতে তিনি দাবী করেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দেয়া রায় পাল্টে দিতে পারে। সম্পূর্ণ ভিডিওতে তিনি একবারও বলেননি ধানের শীষে ভোট দিন। যদিও ভিডিওর এক কোণে ‘ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা ছিল। ভিডিও বার্তায় ফখরুল তরুণদের উদ্দেশ্যে গণতন্ত্র বাঁচানোর কথা বলেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে তার দল বিএনপি কখনই গণতন্ত্রের চর্চা করে না।

এই ভিডিও বার্তাটি প্রচারের পর বিএনপি মহাসচিব প্রচুর আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছেন৷ অনেকেই তথ্য-প্রমাণসহ বলেছেন, মির্জা ফখরুল ভিডিওতে মিথ্যাচার করেছেন, তিনি কখনোই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। মির্জা ফখরুলের এলাকার কোন মুক্তিযোদ্ধাও তাকে যুদ্ধ করতে দেখেনি। ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ফখরুলের নাম ওঠে ২০০৫ সালে যখন তার দল বিএনপি-জামাত ক্ষমতায়। ক্ষমতার অপব্যবহার করেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম ঢুকিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল এমন অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

মির্জা ফখরুলের এই তিন মিনিটের ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় বইছে, ঠিক সেই সময়ে আবারো হাস্যকর ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনার জন্ম দিলেন বিএনপি মহাসচিব। তার নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচারণা চালানোর সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুলকে টাকার মালা পরিয়ে দিলেন। তিনিও মাথা পেতে সেটা গলায় ঝুলিয়ে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে পোজ দিলেন ছবির তোলার জন্য। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটা রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিটি যখন এমন সার্কাসের ক্লাউন অথবা যাত্রা পালার নর্তকীর মতো টাকার মালা গলায় পরে আনন্দে বিগলিত হয়ে পড়েন, তখন তা দেশের অন্যান্য রাজনীতিবিদদের জন্যেও চরম লজ্জা এবং বিব্রতকর।

বিএনপির মধ্যে মৃদুভাষী মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক অঙ্গনে ভদ্রলোক বলেই পরিচিত। বিএনপি নেতাদের মধ্যে একমাত্র তাকেই অন্যান্য দলের লোকজনও অনেকটা পছন্দ করেন। পেশাজীবনে তিনি শিক্ষক ছিলেন, তাই স্বভাবগত কারনে ভদ্রতাটা এখনো ধরে রেখেছেন, যেটা বিএনপি নামক দলের নেতাদের মধ্যে বিরল। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে প্রতিদিন প্রচুর অভিযোগ করলেও, প্রতিপক্ষের কাউকে গালমন্দ করেছেন, এমন নজির খুব একটা নেই।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন ভিডিও বার্তায় নিজের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সত্য বা মিথ্যা গল্প বলে তরুণদের ভোট দেয়ার আহবান জানান তখন কিছু মানুষ তার প্রশংসা করেন এবং কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ আনেন। মির্জা ফখরুলের ভিডিওর স্ক্রিপ্টেড বার্তার কিছু বিষয়ের সঙ্গে কিছু মানুষ একমত পোষণ করেন, আবার কিছু মানুষ দ্বিমত পোষণ করেন। তবে একটা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব যখন টাকার মালা গলায় পরে নিজেকে জাতীর সামনে হাস্যরসে পরিণত করেন, তখন সেই ফখরুলকে করুণা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না এমনটাই মনে করেন অনেকে।