বিশেষ প্রতিনিধি : এদেশে আমরা অনেক মানুষকে প্রতিনিয়ত দেখেছি কিংবা দেখছি যারা বাহবা কুড়ানোর জন্য নতুবা স্বীকৃতি আদায়ের জন্য লোক দেখানো কাজ করে থাকেন। ডানে বামে চোখ রাখলেই এ ধরনের মানুষের অভাব হবে না। আবার এমনও অনেকে আছেন যারা সরকারি-বেসরকারি স্বীকৃতির কথা মাথায়ও রাখেন না। তারা সমাজ তথা দেশের মানুষের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

মানুষকে ভালো ও নিরাপদে রাখার অহর্নিশ চেষ্টা করেই তারা সুখ অনুভব করেন। কিছু পাওয়ার আশায় নয়, বরং তাদের সার্বক্ষণিক চিন্তা থাকে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো কিছু করার। তবে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা দেশে ক্রমেই কমছে বলা চলে। অধিকাংশ শ্রেণি-পেশার মানুষের মগজে নিজের স্বার্থ এবং আখের গোছানোই যেখানে কাজ করে বেশি, সেখানে ভালো কাজ করা মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাওয়াটা অনেকটা স্বাভাবিক।

আমরা যারা সাংবাদিকতা পেশায় আছি, আমাদের নিয়ে অনেক পাঠকেরই একটা অভিযোগ আছে। তা হলো- আমরা নাকি ভালো কাজের প্রশংসা কিংবা নিউজ গণমাধ্যমে তুলে ধরি না। তাদের কথা-আমরা নেগেটিভ নিউজ বেশি করে গণমাধ্যমে তুলে আনি। কথাটাকে আমরা শতভাগ সত্য বলতে পারি না। আবার কারণে-অকারণে পুরোপুরি মিথ্যাও বলা যাবে না।

গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সমাজ তথা দেশে চলমান অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরলে তা নেগেটিভ নিউজই হয়। তবে তা সমাজ তথা দেশেরই মঙ্গল বয়ে আনে। এতে করে সকল পর্যায়ের মানুষ সচেতন ও সতর্ক হয়। সফলতার খবর বা ইতিবাচক নিউজ যে গণমাধ্যমে আসে না, তা-ও জোর দিয়ে বলা যাবে না।

আজ এমন একজন মানুষের কথা তুলে ধরতে চাই, যিনি সত্যিকার অর্থে  তার মমতা জড়ানো এলাকাকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

তিনি রাজধানীর মিরপুর এবং গাবতলি এলকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ০৭, ০৮, ০৯, ১০, ১১ ও ১২ নং  ওয়ার্ড এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৪ আসনের এমপি আসামুল হক। বর্তমানে জাতীয় সংসদের হাউজ কমিটি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগ উত্তর এর সহ-সভাপতি।

আসলামুল হকের পৈতৃক বাড়ি ঢাকা জেলার মিরপুর এলাকায়। তাঁর পিতার নাম হাজী মোঃ এনামুল হক মুন্সী এবং মায়ের নাম ফিরোজা হক। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পেশায় ব্যবসায়ী আসলামুল হক রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত । তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।  আ্ওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে পর পর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনেও দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নৌকা প্রতীকের কান্ডারী করেছেন।

তিনি মায়িশা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়া তিনি ভূমি ব্যবস্থাপনা, রিয়েল এস্টেট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রয়, কেমিক্যাল আমদানি, কনজ্যুমার প্রোডাক্টস ও ট্রেডিং ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সদস্য।

বহু গুণীজনের জন্মস্থান এই মিরপুর গাবতলি এলকাটি। যা ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ছিল দেশের অন্যতম সন্ত্রাসের জনপদ। এমন কোন দিন, সপ্তাহ, মাস ছিল না যখন গুলির আওয়াজ আর লাশের গন্ধ পাওয়া যেত না। সেই এলাকা এখন শান্তি ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এখন গুলির আওয়াজের পরিবর্তে পাখির কলকাকলি শোনা যায়। এমন কোন সড়ক নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। রাস্তার দুই ধারে সড়ক বাতি এবং সারি সারি বিভিন্ন জাতের বৃক্ষরাজি চলার পথে মানুষের মন কাড়বে সন্দেহ নেই। যা আসলামুলক হকের প্রত্যক্ষ নজরদারি ও আন্তরিকতার কারণে সম্ভব হয়েছে।

এবারও সকলের দোয়া ও সহযোগীতা চেয়ে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি আমার মানুষদের সাথেই থাকতে চাই। মানুষদের সাথে থাকার প্রয়াশেই আজকে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে এসেছি।

প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন একনিষ্ট কর্মি আসলামুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ঢাকা-১৪ আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব দিলেন। আমি আপনাদের আন্তরিক ভালোবাসা ও ভোটে নির্বাচনে নিরুঙ্কুস জয় লাভ করি এবং আমার সর্বস্ব দিয়ে আপনাদের সাথে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে রাস্তা ঘাট, স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি মাদ্রাসা মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, কমিউনিটি সেন্টার সহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান এবং বর্ধি্ত করি, হাজারো লোকের কর্মসংস্থান ব্যবস্তা, মাদক, সন্ত্রাস এবং অনিয়ম নির্মূল করেছি। আগামীতেও আমি নির্বাচিত হলে, আমার যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ এলাকার মানুষের উন্নয়নে ও ভাগ্যে পরিবর্তনে কাজ করে যাবো, যত বাধাই আসুক কোন অন্যায়কে প্রসয় দেয়ই নাই, দিবো না, আমি এক আল্লাহ ছাড়া মৃত্যুর ভয়ও পাই না। যতক্ষণ জীবন আছে এলাকার মানুষের সেবা করে যাচ্ছি, যাবো ইনশাআল্লাহ।

রাজনীতি সচেতন ঢাকা ১৪ আসনের এমপি আসলামুল হক পরিশেষে বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিরোধী রাজনীতিকরা কাকে প্রধানমন্ত্রী করবেন? কে ই বা হবেন রাষ্ট্রপতি এরা ঠিক করতে পারেনি, এমনকি নেই কোন নির্বাচনী ইশতেহার। আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে এমন রূপরেখা ও নেই এদের কথা কিংবা আলোচনায়। এদের স্বপ্ন একটাই আমাদের স্বপ্ন সাধের বাংলাদেশ ক্ষমতায় গিয়ে লুটেপুটে খাওয়া। এমন সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজদের ভোট দিয়ে নিশ্চই জনগণ নিজেদের পায়ে কুড়াল মারবে না? কিন্তু আমাদের লক্ষ্য স্থির, জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ভিশন-২০৪১ এর লক্ষ্যে আমরা অবিচল। আর তাই ভবিষ্যতের সুন্দর বাংলাদেশের লক্ষ্যে পৌছাতে শেখ হাসিনার সরকার আরোও একবার দরকার।