ছবিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎে জাতীয় সংসদের হইপ সোলায়ামান হক জোয়া্র্দ্দার ছেলুন এমপি; যিনি এবারও চুয়াডাঙ্গা এক আসনের মহাজোটের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী। এ সময় তাঁর সঙ্গে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন জেলা আ্ওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নজরুল মল্লিক।

আলী কদর পলাশ : চুয়াডাঙ্গার মানুষের কল্যাণ এবং সার্বিক উন্নতিতে কাজ করার অভীপ্সায় সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন যেন হাজার বার জন্মগ্রহণে্ও রাজি। শত শত বুদ্ধের কারুণ্য-নিষিক্ত হৃদয়বান মানুষ তাঁর কাঙ্ক্ষিত। অজ্ঞ, কাতর, পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে, তাদের স্বমহিমায় উদ্ভাসিত করার লক্ষ্যে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাই তাঁর রাজনীতির সবটাই জুড়ে আছে মানুষের কথা। তাঁর ছাত্রজীবন থেকে শুরু করা বহু কন্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে রাজনীতিতে এমপি পদে বার বার বিজয়, জাতীয় সংসদের হুইপের দায়িত্বলাভ -সবটাই যেন সেই মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের প্রসঙ্গ এবং প্রাধান্য। বৈদান্তিক অনুভবে যাকে বলে পরমব্রহ্ম। ইসলামে খলিফা।

মহান জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন শুধু একজন ব্যক্তির নাম নয় বরং একটি প্রতিষ্ঠান। অপরিসীম, ত্যাগ, নিরলস পরিশ্রম ও মেধার বলে তার সমস্ত কর্মকাণ্ডই আজ প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করেছে। তিনি প্রকৃত অর্থেই শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের এক পরীক্ষিত বন্ধু। অবিসংবাদিত এই নেতা সত্যিকারের অর্থেই ব্রাতজনের সুহৃদ। তিনি প্রকৃত অর্থেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন প্রকৃত এবং যোগ্য উত্তরসূরি চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, নারী-পুরুষ সকলের নিকট এক পরিচিত মুখ গনমানুষের নেতা বর্ষীয়মান রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক, দক্ষিণ পশ্চিম রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদের উপরই আস্থা রেখেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে সপ্তম বারের মত (নৌকা) প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন তিনি। বর্ণাঢ্য দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পরপর সপ্তম বারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী, তিনি জীবনে কখনও দলীয় মনোনয়ন (নৌকা) চেয়ে বঞ্চিত হননি, এবারও তাকে দেশরত্ন শেখ হাসিনা বঞ্চিত করেননি।

এক নজরে তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কিছু খন্ডচিত্র

উন্নয়ন
এমপি ছেলুন তার পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ গরিব, দুঃখী, অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে গিয়ে নিজের জীবন, যৌবন ও নিজের ব্যাক্তিগত সুখ-শান্তিকে উৎসর্গ করেছেন। একদিকে যেমন মানুষের সেবায় মেধা,শ্রম দেওয়ার মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রকৃত সেবক হিসাবে। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, নারী-পুরুষ সকলের নিকট এক পরিচিত মুখ। তিনি হাজারো বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে ধৈর্য ও সাহসের সাথে জনগনের পাশে থেকে জনগণকে সেবা করে এসেছেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর চুয়াডাঙ্গায় তিনি যা প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিকমানের জেলা স্টেডিয়াম, যুব উন্নয়ন ও বাকপ্রতিবন্ধি কেন্দ্র, জেলা গ্রন্থাগার, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র(টিটিসি), শহীদ মিনার, চুয়াডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আট কবর কমপ্লেক্স ভবন, আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আলমডাঙ্গা বদ্ধভূমি, কলেজে ৫তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বেডে উন্নীতকরণ, সড়ক ডিভাইডার, বড় ও ছোট এক-তৃতীয়াংশ সড়ক পাকাকরণ ইত্যাদি উন্নয়নের চিত্র চুয়াডাঙ্গার বুকে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে।

শান্তি-শৃঙ্খলা
চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা তথা চুয়াডাঙ্গা জেলা এক সময় চরমপন্থিদের অভয় অরণ্য ও রক্তাত্ত জনপদ নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। অত্র এলাকার জনজীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ও সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি এর আন্তরিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে জনজীবনে শান্তি ফিরে এসেচে। আজ অত্র অঞ্চলের মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে। জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি এর কড়া নজরদারিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা আজ চাঁদাবাজ মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত। নেই সেই অতীত দুর্নাম।

যোগাযোগ ব্যবস্থা
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও আলমডাঙ্গার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৫০ কিলোমিটার নতুন পাকা রাস্তা নির্মাণ করেছেন। একদা এলাকার কাদা মাটির রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ার কারনে কৃষকরা সহজেই পন্য বাজারজাত করতে পারতো না, এজন্য অর্থনৈতিক ভাবে কৃষকদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো, সেই কথা বিবেচনা করেই কাদা মাটির রাস্তা পাকাকরণ করেছেন। ফলে এখন নতুন পাকা রাস্তা হওয়ায় উন্নয়নে কৃষি নির্ভর অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন হওয়ায় কৃষকরা খুব সহজেই কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে সুবিধা পাচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক স্তর। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য তথ্য প্রযুক্তি সুবিধা জনগণের দৌড় গোঁড়ায় পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরী। সেই কথা চিন্তা করে জননেত্রি শেখ হাসিনা সরকার সকল ইউনিয়ন পরিষদে তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু করেছেন। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যে সকল ইউনিয়নে নতুন ভবন ছিল না, সেই সকল ইউনিয়ন পরিষদগুলিতে নতুন দ্বিতল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনগুলিতে পুনঃনির্মাণ করেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে জনগণকে বর্তমান সরকার এই তথ্য সেবা নিশ্চিত করেছেন। তাঁরই ধারাবাহিকাতায় চুয়াডাঙ্গার ইউনিয়ন পরিষদগুলিতে নতুন ভবন নির্মাণ করেছেন মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ জনাব সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি।

মাথাভাঙ্গা নদী
চুয়াডাঙ্গার শহরের প্রাণকেন্দ্রে বড় বাজারের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিয্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদী। যতদিন যাচ্ছে ততই মাথাভাঙ্গা নদীর অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে। আজ এই নদী ধানের চাষের জমিতে পরিণত হয়েছে। ঐতিয্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদীকে তাঁর পুরানো রুপ ফিরিয়ে দিতে নদী পুনসংস্করনে উদ্বেগের কথা মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন এমপি ছেলুন। মাথাভাঙ্গা নদীর অস্তিত্ব যেন বিলীন না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে রাজী জাতীয় সংসদের এই হুইপ।

পরিশেষ
চুয়াডাঙ্গার ৯৫ শতাংশ সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। বাকি রাস্তাগুলোও পাকাকরণের প্রকল্পভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। মাথাভাঙ্গা নদীর উৎসমুখ খুলে খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত অসম্ভব পর্যায়ে রয়েছে। কারণ মাথাভাঙ্গা নদীর উৎসমুখটি ভারত ভূখণ্ডভুক্ত। ফলে বিষয়টি অনেক বড় এবং আন্তঃদেশীয় সিদ্ধান্তের বিষয়।’চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মহান জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন উপরোক্ত তথ্য দিয়ে বলেছেন, পোড়াদহ-গোয়ালন্দ ঘাট সাটেল ট্রেনটি আমরা দর্শনা পর্যন্ত আনার চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে চোরাচালান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুজিবনগর-মেহেরপুর, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়ক সম্প্রসারণের প্রকল্পটি ১৮০ কোটি টাকার।ধীরে ধীরে বরাদ্দ পাওয়ার কারণে ঠিকাদারের কাজে ধীর গতি। আমরা আসন্ন বাজেটের পর অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে এ সড়কের কাজ অতিদ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করবো।সড়ক সম্প্রসারণের কাজটি আমারই ডিও লেটারে প্রকল্পভুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই জনপদের উন্নয়নের রুপকার ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি এই জেলায় যে উন্নয়ন করেছেন তা চুয়াডাঙ্গার বুকে মাথা তুলে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, এই অবিসংবাদিত নেতার নাম চুয়াডাঙ্গাবাসী সোনার হরফে ইতিহাসের পাতায় লিখে রাখবে।

তথ্য সহায়তা : হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি ফেসবুক পেজ।