নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। হাতে রয়েছে মাত্র তিনটে দিন। ভোটের সেই উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন বড় নিশ্চিন্ত! নির্বাচনের আগ মুহূর্তে কলকাতার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, তাঁর দল আওয়ামী লীগ ফের জিতছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদক অঞ্জন রায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন আসন্ন নির্বাচন নিয়ে।

প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই তৃপ্তির হাসি দিয়ে নিশ্চিন্তে বলেন,‘বাংলাদেশের জনগণের উপর আমার বিপুল আস্থা। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জনগণের ভোটেই আমরা নির্বাচিত হব।’

প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল এত নিশ্চিত কীভাবে হচ্ছেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তি, ২০১৩-র নির্বাচনে প্রায় ছ’শো স্কুল পোড়ানোর কথা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। মুছে যায়নি প্রিজাইডিং অফিসার-সহ অজস্র নাগরিককে হত্যার স্মৃতি। রাস্তা কেটে মানুষের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।’ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, সেই সময়ে জনগণই রুখে দাঁড়িয়েছিল। ভোটও দিয়েছিল তারা। সেই জনগণ ফের তাঁকেই ভোট দেবেন বলে বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, নির্বাচনের পরে বাংলাদেশে একের পর এক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ সে সব ভোলেনি। আর ভোলেনি বলেই ওই সব ঘটনা যে রাজনৈতিক দল ঘটিয়েছিল, তারা জনসমর্থনহীন হয়ে পড়েছে। আর সেই জোরের জায়গা থেকেই ফের সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী লীগ।

কিন্তু, নির্বাচনের আগে বিরোধীরা তো তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে। তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘নালিশ করার পাশাপাশি বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং মিথ্যা কথা বলতে ওরা ভীষণ পারদর্শী।’ পাল্টা দাবি, নির্বাচনে বিরোধীদের হয়ে যাঁরা প্রার্থী হতে চেয়েছেন, তাদেরই ওরা নমিনেশন দিয়েছে। কিন্তু, দলীয় প্রতীক পেয়েছেন একজন। এরপর নিজেদের মধ্যেই সংঘাত শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘দলের পুরনো বা জিতবেন এমন নেতাদের নমিনেশন দেয়নি ওরা। যে কারণে বঞ্চিতদের কাছে ওদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে।’ তিনি জানালেন,‘কয়েক জন নেতা-কর্মীকে খুনের ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। নির্বাচন সুষ্ঠু ভাবে শেষ হওয়ার পর সে বিষয়ে তদন্ত হবে।’

বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায় আওয়ামী লিগ সম্পর্কে খুবই উৎসাহী বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মানুষের মন থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাই মুছে ফেলা হয়েছিল। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে সত্যকে জানার একটা আগ্রহ রয়েছে। ইন্টারনেটে খুঁজলেই একাত্তরের অনেক তথ্য এখন জানা যায়। ফলে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার বিষয়টি এখন অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘এর জেরে আওয়ামী লীগের প্রতি যুব সম্প্রদায়ের মতটাই পাল্টে গিয়েছে।’

নির্বাচন উপলক্ষে হাসিনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফর করেছেন। সেই সফরে তিনি মানুষের কাছ থেকে ভালই সাড়া পেয়েছেন বলে এ দিন দাবি করেন হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘মানুষের মধ্যে সেই ভালবাসাটা দেখতে পেলাম জানেন! তাঁরা অন্তর থেকে চাইছেন, আওয়ামি লীগ আবার ক্ষমতায় আসুক। জনগণ এটা জানেন, আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তিত হবে।’