নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২২। এবারের বইমেলায় দেখা গিয়েছে লেখক, প্রকাশক এবং পাঠকদের ভিড়। বিগত বছরের তুলনায় এবারের মেলা বিভিন্ন গল্প, কবিতা, ছোট গল্পের সমারোহে বেশ জমেও উঠেছে। জমজমাটের ভেতরে বইমেলার সময় কখন যে ঘনিয়ে এসেছে বুঝাই যায় নি। আমাদের লেখক, প্রকাশকদের নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনে এবার থাকছে মোঃ আরিফুর রহমান। এবারের বইমেলায় তার লেখা তিনটি বই এককভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, ‘একটাই আকাশ কিন্তু গল্পগুলো আলাদা’, ‘ঐন্দ্রজালিক’ এবং ‘অহিংসক’। তার লেখা এবারের বইগুলোতে রয়েছে গল্পগ্রন্থ, ছোট গল্প এবং কাব্যগ্রন্থ।

এবারের বইমেলায় প্রকাশিত বইগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে লেখক মোঃ আরিফুর রহমান তার বইগুলো সম্পর্কে এক এক করে বাংলা ইনসাইডারকে বলেন,

১. একটাই আকাশ কিন্তু গল্পগুলো আলাদা। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। ছোট ছোট পনেরটি গল্প আছে এই বইতে। ট্র্যাজেডি, কমেডি, রোম্যান্টিক, ফ্যাকচুয়াল ও হরর গল্পের সমাহার রয়েছে এই বইয়ে। বইটি প্রকাশ করেছে পরিলেখ প্রকাশনী যাদের স্টল নাম্বার ২৯। ৮০ পৃষ্ঠার এ বইটির প্রচ্ছদ মূল্য ২০০/-।

২. ঐন্দ্রজালিক। এটি মূলত কাব্যগ্রন্থ। বইটিতে ৫০ টি কবিতা রয়েছে। ৬৪ পৃষ্ঠার এ বইয়ের প্রচ্ছদ মূল্য ১৮০/-। বইটি প্রকাশ করেছে সমযুগ প্রকাশন। এই বইমেলায় তাদের কোনো স্টল নেই।

৩. অহিংসক। এটি ভৌতিক ঘটনা নিয়ে লেখা একটি ছোটগল্পের বই। ছয়টি ভূতের গল্প নিয়ে লেখা বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৪ এবং প্রচ্ছদ মূল্য ২০০/-। বইটির প্রকাশক নব সাহিত্য প্রকাশনী যাদের স্টল নাম্বার ১৩৬।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, ‘আমি মূলত সব ধরনের লেখা লিখতে পছন্দ করি। যেমন, ট্র্যাজেডি, কমেডি, হরর, রোম্যান্টিক, ফ্যাকচুয়াল, গোয়েন্দা, রহস্য, ফ্যান্টাসি, ভ্রমণ, এডভেঞ্চার ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে সব ধরনের লেখাই আমার আছে এবং আমি ছোটগল্প লিখতেই বেশি পছন্দ করি। উপন্যাস কোনোদিন লিখতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। এতগুলো শব্দ ভাবা বা লেখা সম্ভবত আমার দ্বারা সম্ভব নয়’।

লেখক পেশায় একজন শিক্ষক, সে হিসেবে বই নিয়ে কেমন আশা-প্রত্যাশা এসব ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, যেহেতু আমি পেশায় শিক্ষক, আমার সবচেয়ে বড় পাঠক মহল হচ্ছে আমার শিক্ষার্থীরা। আমার বই নিয়ে আমার কোন প্রত্যাশা নেই। শুধু চাই মানুষ অনেক বেশি বইমুখী হোক এবং সাহিত্যকে ভালোবাসুক। একমাত্র বিনোদন দেয়া ছাড়া আমার আর কোন উদ্দেশ্য নেই। আমি আমার লেখায় কোন ধরনের ম্যাসেজ ট্যাসেজ দিতে চাই না। আলহামদুলিল্লাহ বই নিয়ে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি।

তিনি পাঠকদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, পাঠকদের বলবো বেশি বেশি বই পড়তে। ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো থেকে নিজেদের একটু বাঁচিয়ে রাখতে। আর অবশ্যই নতুন লেখকের বই কিনে এবং পড়ে তাদের উৎসাহ প্রদান করতে।

তিনি সর্বশেষে বলেন, আমি যেকোন কিছু লিখতে বসলে আমার সবসময় নিজের স্টুডেন্টদের চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তাই আমার লেখাগুলো কিশোর-কিশোরী লেভেলে গিয়েই আটকে আছে। এটা একদিক থেকে ভালো। সিলেক্টেড অডিয়েন্স নিয়ে কাজ করলে কাজের গতি থাকে। তাছাড়া, কঠিন শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে বই বিমুখ করা আমার পছন্দ নয়। আমি সহজ ও সাবলীল ভাষায় লিখতে পছন্দ করি। আমি চাই না আমার বই পড়তে বসে বাচ্চারা বাংলা টু বাংলা ডিকশনারি নিয়ে বসুক।

লেখকের লেখালেখির শুরুটা বলা যায় স্কুল জীবন থেকেই। ক্লাস এইট বা নাইনে যখন পড়তেন তিনি, তখন থেকেই ছোট ছোট ছড়া ও গল্প লিখতেন। এসময়টা হয়তো বুঝে না বুঝেই শুধু ভালোবেসে লিখতেন। তবে ভালোভাবে লেখাটা শুরু করতে পেরেছি অনার্সে ভর্তি হবার পরেই এবং এই লেখালেখির পেছনের উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা বলতে তার পরিবার থেকেই । যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠার সুবাদেই বড় ভাই-বোনদের কাছ থেকে জন্মেছিল বই পড়ার আগ্রহ। সেই থেকে লেখার ইচ্ছে জন্মেছিলো তার। লেখালেখির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার বাবা-মা। উনারাই আমার লেখার সর্বপ্রথম পাঠক বলে জানায় লেখক আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, প্রায়ই আমার ঘরে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘নতুন কিছু লিখিসনি?’

উল্লেখ্য, লেখক মোঃ আরিফুর রহমান। জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯১ সালে পুরান ঢাকার লালবাগে। বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত কাকলি হাই স্কুল এন্ড কলেজে ইংরেজির লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছেন।