এইচ এম হাকিম


এই খবরটি মূল পত্রিকার পাতায় পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন

আগামী ১৪ মার্চ জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে আগাম জানান দিতে মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজা- উজিরদের দৌড় ঝাঁপ শুরু হয়েছে।

দলীয় একটি বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ১৮ বছর পরে আগামী ১৪ মার্চ চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রি-বার্ষিক এ সম্মেলনকে ঘিরে প্রার্থীদের প্রচারণায় উৎসব মুখর হয়ে উঠেছে গ্রাম এবং উপজেলা শহর।

এবারে সম্মেলন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১০ জন প্রার্থী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দলীয় তৃণমুল নেতা কর্মীদের একটি সূত্রে জানা যায় এবারে জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে যোগ্য সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলীয় পদে আসুক।

প্রার্থীরা মাঠ পর্যায়ে এখন থেকেই দিনভর সময় পার করছেন। সভাপতি হিসেবে বর্তমান জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজার নাম শুনা গেলেও অন্য ২ জন প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে একটু গোপনে।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মোঃ আব্দুল লতিফ অমল, বর্তমান জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক নজরুল ইসলাম।

সাবেক জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বৃহত্তর উথলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মরহুম শরীফ উদ্দীনের পুত্র কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার শিপলু। সাবেক জীবননগর পৌর মেয়র ও বর্তমান পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৌরভ হোসেন খাঁন, জীবননগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম ইশা।

দলের প্রবীণ একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে (দামুড়হুদা ও জীবননগর) আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি হিসেবে হাজী আলী আজগার টগর পর পর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে তার কার্যকলাপে এলাকায় তিনি রাজনৈতিক কিম্বা সাংগঠনিক ভাবে হেরে গেছেন এমনটা দেখা যায়নি। বরং তিনি যেভাবে চেয়েছেন, যা চেয়েছেন সেভাবেই হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মোঃ আব্দুল লতিফ অমলের মাত্র ৭৫টি ভোট পাওয়া এবং দামুড়হুদা উপজেলা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টুর এমপির নিজের ভায়ের কাছে পরাজিত হওয়ায় বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তো চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের কিংবদন্তী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এম সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের অবহেলিত নেতাদের একটা আশ্রয় ছিল। এখন মামা-ভাগ্নে মিলে মিশে একাকার। তিনি যোগ করেন, জীবননগর উপজেলা কাউন্সিলে যোগ্য প্রার্থীরা সভাপতি সম্পাদক হোন এটা তো সবাই চায়। কিন্তু বুঝতে হবে আমাদের এমপি মহোদয় কি চান? সত্যি বলতে কি, এমপি টগর যা চাইবেন তাই হবে- এ ধারণা জীবননগর বাসীরও।