শামসুল আলম স্বপন

বাম থেকে জামানত হারানো তিন প্রার্থী আব্দুল হান্নান, সম্পা মাহমুদ ও মোমিন মন্ডল

কুষ্টিয়া ৩ ( সদর) আসনের এমপি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের সংসদীয় এলাকায় নৌকার ৩ প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনাঝড় ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলছেন, ‘নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই ফল বিপর্যয় হয়েছে।’
পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ১১৪, ১৭৭ ও ২৩২টি। এমন বিপর্যয়ের জন্য প্রার্থীরা দুষছেন দলের নেতাদের আভ্যৗন্তরীণ কোন্দলকে। আর সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১১ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার একজন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন । বাকী ১০টি ইউনিয়নে জয় লাভ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-এর ৪৪ (৩) ধারায় বলা হয়েছে- কোন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ অপেক্ষা কম পেলে তার জামানতের অর্থ সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ মোমিন মন্ডল নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ১১৪টি। এই ইউনিয়নে ২৬ হাজার ৪৭০ ভোটের মধ্যে ২০ হাজার ৭০৯টি ভোট পড়ে। বিধিমালা অনুসারে এক-অষ্টমাংশ ভোট হয় ২ হাজার ৫৮৯টি। এই ইউনিয়নে আটজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে নৌকার প্রার্থী মোমিন মন্ডলের অবস্থান পঞ্চম। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিন্টু ফকির ঘোড়া প্রতীকে ৮ হাজার ৬ ৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

নৌকার পরাজিত প্রার্থী জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মোমিন মন্ডল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা দলের বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর হয়ে ভোট করতে শুরু করেন। এ অবস্থায় ভোটের দুদিন আগে আমি হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।’তিনি আফসোস করে বলেন, ‘দলীয় নেতারা কেউ আমার সঙ্গে ছিলেন না। দলের নেতারা যদি দলের ভোট না করেন, তাহলে আমার কি করার আছে।’

আলামপুর ইউনিয়নেও নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র ১৭৭টি। এ ইউনিয়নে মোট ভোট পড়েছে ১৮ হাজার ২৭৪টি।

এখানেও বিজয়ী হয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আখতারুজ্জামান বিশ্বাস। চশমা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৯ হাজার ৫০৮ ভোট। এই ইউনিয়নে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার প্রার্থীর অবস্থান পঞ্চম ।

ভরাডুবি নিয়ে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল হান্নান বিশ্বাস বলেন, ‘এখন অভিযোগ করে আর কি করব? থানা-জেলার নেতার কেউ সহযোগিতা করেনি।

হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম সম্পা মাহমুদ পেয়েছেন মাত্র ২৩২ ভোট। এ ইউনিয়নে ১৯ হাজার ২৮০ ভোট পড়েছে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মোস্তাক হোসেন মোটর সাইকেল প্রতীকে ৮ হাজার ৮৮৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানেও পঞ্চম হয়েছেন] নৌকার প্রার্থী। জামানত ধরে রাখতে তাকে পেতে হতো আরও ২ হাজার ৪১০ ভোট। এম সম্পা মাহমুদও তার পরাজয়ের জন্য নেতা-কর্মীদেও দুষছেন।
এই ইউনিয়নে নৌকার পরাজিত প্রার্থী ও বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে দেবর-ভাবি। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রশিদের পক্ষে নির্বাচন করেন।
পরাজিত প্রার্থী সম্পা মাহমুদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় নেতারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করায় ভোটের এমন ফল হয়েছে।’

এর আগে গত ১১ নভেম্বর ২০২১ মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শারমিন আক্তারেরও জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৪২৭ ভোট। অথচ ভোট পড়েছিল ২৪ হাজার ৮৩২টি। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীর মেয়ে বলে আওয়ামী মহলে সমালোচিত হন।