নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মানবিক পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক, মানবিক ও উৎসাহমূলক গণমুখী কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গা এক ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে “কন্যা সন্তান জন্ম হলে ফোন করুন, উপহার পৌঁছে যাবে সাথে সাথে” শিরোনামে একটি পোষ্ট দেওয়া হয়। তারপর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ নয়টি কন্যা শিশুর পরিবারকে পাঠানো হয়েছে ফুল ও নতুন পোশাক। এটি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা পুলিশের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।

কণ্যা শিশুর পরিবারের মাঝে উপহার প্রদান

গত শনিবার (৬ ই ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থানার গাড়াবাড়ী গ্রামের সুজন মিয়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান, গত শুক্রবার (৫ ই ফেব্রুয়ারি) তার স্ত্রী মেঘনা খাতুনের কোলে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছেন।”

পুলিশ কন্ট্রোল রুমে তার বাচ্চা ভুমিষ্ঠ হওয়ার সু-সংবাদ জানানোর সাথে সাথে পুলিশ সুপার চুয়াডাঙ্গার নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঐ শিশুর জন্য নিউবর্ণ বেবী প্যাকেজ, ফুলের তোড়া নিয়ে তাদের বাসায় উপস্থিত হয়েছিল।

কন্যা শিশুর পরিবারের লোকজন পুলিশ সুপারের পাঠানো উপহার পেয়ে খুব খুশি হন এবং পুলিশ সুপার জাহিদুলের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে পুলিশ সুপার ও তার পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

কণ্যা শিশুর পরিবারের মাঝে উপহার প্রদান

এছাড়াও চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান ও মধু খাতুন দম্পতি, ছাগল ফার্ম এর পিছনের সুলতান মহমুদ ও কুলসুম পারভীন দম্পতি, একাডেমী মোড়ের সাগর হোসেন ও রিতু খাতুন দম্পতি, সরোজগঞ্জের পুলিশ পরিদর্শন আব্দুল আলিম ও জানিয়া সুলতানা দম্পতি, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের বাবু ও চাঁদনী খাতুন দম্পতি, গোবিন্দপুরের রকিবুল ইসলাম ও সীমা খাতুন দম্পতি, বিষ্ণপুরের রাসেল ও রজনী খাতুন দম্পতি, পার দামুড়হুদা গ্রামের লাল্টু ও তাসলিমা খাতুন দম্পতি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান, তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নিয়েছেন।

সংবাদ জানানোর সাথে সাথে পুলিশ সুপার জাহিদুলের নির্দেশনানুযায়ী কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ উল্লিখিত পরিবারের কাছে উপহার সামগ্রী নিয়ে তাদের বাসায় উপস্থিত হন। এখন পর্যন্ত ৩৫১ টি কন্যা শিশু পরিবারকে পুলিশ সুপারের শুভেচ্ছা উপহার পৌছে দেওয়া হয়েছে।

কণ্যা শিশুর পরিবারের মাঝে উপহার প্রদান

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের এই ব্যতিক্রমী কর্মকান্ডের প্রশংসা এখন স্থানীয় জনসাধারণের মুখে মুখে। কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার কারনে সংসারে কলহ সৃষ্টি ও পারিবারিক অসন্তোষ দেখা যায়। কিন্তু পুলিশ সুপারের এই মহতী উদ্যোগ হতে পারে সমাজের ঐ সকল পরিবারের জন্য ইতিবাচক বার্তা।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। এই বিপুল সংখ্যক নারী পিছিয়ে থাকলে সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব। চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, নারী ও শিশু নির্যতান প্রতিরোধ এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরনে সহযোগিতা কামনা করছি।