প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের খাদ্য অধিদফতর ১০টি নির্দেশনা জারি করেছে। জরুরি দাফতরিক প্রয়োজন ছাড়া পারস্পরিক মুখোমুখি সাক্ষাৎ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি অধিকাংশ দাফতরিক আলোচনা ও কাজ, টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ই-নথিতেই সম্পন্ন করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ অফিস কক্ষ জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। খাদ্যভবনে প্রবেশের আগে সাবান-পানি দিয়ে হাত, মুখ যথাযথভাবে ধুয়ে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত হয়ে প্রবেশ করতে হবে। দর্শণার্থী সাক্ষাৎ সীমিত করে তাদের সঙ্গে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইলে আলোচনা বা যোগাযোগ সম্পন্ন করতে হবে। তবে কোনোভাবেই সেবাপ্রার্থীদের সেবা গ্রহণে বিঘ্নিত করা যাবে না। উল্লেখিত বিষয়সহ ১০ দফা নির্দেশনা সম্প্রতি খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সারোয়ার মাহমুদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশ জারি করে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সারোয়ার মাহমুদ নিজ দফতরে বলেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে খাদ্যভবনে দর্শনার্থীসহ দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতনমূলক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে সরকার কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। এমনকি জরুরি দাফতরিক প্রয়োজন ছাড়া দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ পরিহার করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক যে কোনো ধরনের প্রয়োজন টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, ই-মেইল বা ই-নথিতে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। সবাই এসব নির্দেশনা মেনে চললে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

খাদ্য অধিদফতরের ওই আদেশে বলা হয়- করোনাভাইরাস সংক্রমণে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিহ্নিত হয়েছে। ভাইরাসটি মারাত্মক সংক্রামক ও প্রাণঘাতী। এ ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সর্বোচ্চ সর্তকতার কোনো বিকল্প নেই।

নির্দেশনার উল্লেখযোগ্য হল- খাদ্যভবনসহ এর অধিনস্থ সব ভবন ও স্থাপনায় প্রবেশের আগে সাবান-পানি দিয়ে হাত, মুখ যথাযথভাবে ধুয়ে বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে জীবানুমুক্ত হয়ে প্রবেশের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি দফতর ও স্থাপনার টয়লেট ও ওয়াসরুম প্রতিদিন যথাযথভাবে জীবানুমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিজ নিজ অফিসকক্ষ জীবানুমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত দর্শনার্থীকে হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল বা টিস্যু রাখতে হবে।

এতে আরও বলা হয়- কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের থুথু, পানের পিক, কাশি টিস্যুর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। বর্জ্য ও আর্বজনা ফেলতে প্রতিটি দফতরে ওয়েস্ট বিন স্থাপন করতে হবে। সবাইকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। এ জন্য করমর্দন, কোলাকুলি পরিহার করে পারস্পরিক সর্বোচ্চ দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে। পাশাপাশি সবাইকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে