স্বপন আহাম্মেদ।। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেছেন আমাদের সময় ফুরিয়ে গেছে এখনই সবাই মিলে সবার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যে সময়টুকু আছে যদি কাজে লাগাতে পারি বিপর্যয় রোধ করতে পারবো। জেলা প্রশাসক শনিবার তার অফিস চত্বরে করোনা মোকাবেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির রক্ষ্যে মাইকিং কার্যক্রমের উদ্ধোনকালে এ কথা বলেন। কুষ্টিয়ার ৪০ টার বেশী সামাজিক সংগঠন নিয়ে গড়ে ওঠা সম্মিলিত সামাজিক জোট ও কুষ্টিয়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাইকিং কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবায়দুর রহমান, এনডিসি মুসাব্বিরুল ইসলাম, সম্মিলিত সামাজিক জোট, কুষ্টিয়ার চেয়ারম্যান বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক, দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইমসের সম্পাদক ও প্রকাশক ড. আমানুর আমান, সমন্বয়ক মোহাইমিনুর রহমান পলল, এনডিএফ বিডির সেন্ট্রাল কো-চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া জোনের সমন্বয়কারী শামীম রানা, মানুষ মানুষের জন্য সংগঠনের পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিলন প্রমুখ। এ সময় জেলা প্রশসাক সম্মিলিত সামাজিক জোট, কুষ্টিয়ার ৫ দিনের মাইকিং ক্যাম্পেইনের উদ্ধোধন করেন।

জেলা প্রশসাক বলেন এই মুহুর্তে আমরা কম করে হলেও যদি তিনটি শর্ত মেনে চলি তাহলেও অনেকাংশে এই মারণ ভাইরাসটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। জেলা প্রশাসক বলেন ঘরের বাইরে একেরারেই যাওয়া চলবে না। যদি বিশেষ প্রয়োজনে যেতেই হয় তবে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে এবং একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে করে হলেও ৬ ফুট দুরুত্ব বজায় রেখে অকস্থান নিতে হবে। সামাজিক সংশক্তি বা এটাচমেন্ট সম্পুর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।

তিনি বলেন জেলা প্রশাসন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলে তবে এই ক্ষেত্রে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা যাবে না। এই বার্তাটি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি ইউএনও-ম্যাজিস্ট্রেটসহ মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের এ বিষয়ে সর্তক হবার আহবান জানান। তিনি বলেন এখনকার সকল কার্যক্রম সরাসরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সময়ে সারা দেশের মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন এই রোগটি নিয়ে আর বিভ্রান্তির কোন অবকাশ নেই। এটা এখন বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়াই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। তবে এই আতঙ্কের সঙ্গে ভাইরাসটি নিয়ে নানা বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি জন সাধারনকে সঠিক নিয়মে করোনা মোকাবেলা করার আহবান জানান। তিনি বলেন অপরীক্ষিত কৌশল ও পরামর্শ যদি সঠিক না হয়, তবে এ থেকেও বিপদ ঘটতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া পরামর্শই অনুসরণ করা উচিত। যেহেতু বিশ্বে করোনাভাইরাসটি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের নানা সংস্থার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ভাবে সমন্বয়ের কাজটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই করছে, সেহেতু তাদের দেওয়া তথ্যের ওপরই নির্ভর করাটা মঙ্গলজনক।