ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবিতপুর গ্রামে ৬ বছরের শিশু ধর্ষনের ঘটনায় সেলিম হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ভোরে তাকে সুবিতপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। সেলিম ওই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে শিশুটির মা কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এদিকে শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ, দোষিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ঝিনাইদহ শহরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। বুধবার দুপুরে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচীর আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। কর্মসুচিতে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন রাজনৈতকি ও সামাজি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন কর্মসুচি শেষে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার সভাপতি শান্ত জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার লাল্টু, মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান দিপ্তী রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাংগঠনিক সম্পাদক অমিয় মজুমদার অপু, নির্বাহী সদস্য এম এ সালাম, বিহঙ্গের শাহীনুর আলম লিটন, জেলা নাট্য সমন্বয় পরিষদের সভাপতি রুবেল পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক তারেক হোসেন পল্লব, উই এর নির্বাহী পরিচালক শরিফা আক্তারসহ অন্যান্যরা। বক্তারা বলেন, কালীগঞ্জের সুবিতপুর গ্রামে প্রতিবেশী সেলিম হোসেন ওই শিশুকে পাশবিক নির্যাতন করে। বিষয়টি জানান পর পরিবারের লোকজন স্থানীয় চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টুকে জানালে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ৮০ হাজার টাকায় রফা হয়। সে টাকাও ধর্ষিতার পরিবার পায়নি। বরং চেয়ারম্যান শিশুটির যৌনাঙ্গে হাত দিয়ে দ্বিতীয়বার শিশুটিকে নির্যাতন করেছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টুরও শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। উল্লেখ্য মায়ের জন্য পান আনতে গিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষন করে প্রতিবেশি দাদা সেলিম হোসেন। পরিবারটি হতদরিদ্র হওয়ায় ডাক্তার ও থানা পুলিশের পরিবর্তে স্থানীয় চেয়ারম্যানের দারস্থ হন বিচারের আশায়। চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু শিশুটির যৌনাঙ্গ হাত দিয়ে অভিনব ভাবে ধর্ষন পরীক্ষা করে বলে দেন তেমন কোন আলামত নেই। এরপর ধর্ষককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রথম কিস্তির ৫০ হাজার টাকা পকেটস্থ করেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন দৈনিকের অনলাইনে খবর প্রকাশিত হলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ শিশুকে উদ্ধার ও বুধবার ভোরে ধর্ষক সেলিমকে গ্রেফতার করে।