এস কে রাজু- কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃহাওড় বাওড়ের জেলা কিশোরগঞ্জ। কিশোরগঞ্জ জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করেন। কেউ জমিতে ধান, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ধরনের সব্জি ও মসলা চাষে জড়িয়েছেন।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট এর সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, কৃষি গবেষণা উপকেন্দ্র কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।এ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হল যেসমস্ত এলাকায় সারাবছর পানি এবং কচুরিপানা থাকে সে সমস্ত এলাকাকে চাষের আওতায় আনা।

প্রকল্পের অধীনে কিশোরগঞ্জ সদর,নিকলী এবং করিমগঞ্জ উপজেলায় ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ শুরু হয়েছে।বর্তমানে কৃষি গবেষণা উপকেন্দ্রের সামনে নরসুন্দা নদীতে ভাসমান বেডে করলা,মিষ্টি কুমড়া,লাউ,টমেটো, বেগুন, পেয়াজ, মরিচ এবং ফুল চাষের গবেষণা করা হচ্ছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বারি হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া-২ যেটা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর এবং খেতে অনেক সুস্বাদু ।এর চাহিদা মানুষের কাছে ব্যাপক।এর ওজন প্রায় ২-৩ কেজির মধ্যে হয়।ফলন প্রায় ২৫-৩০ টনের কাছাকাছি।এখানে দেখা যায় চাষাবাদে ব্যাপক ফলন হয়েছে।এতে কোন কীটনাশক ব্যাবহার করা হয় না।পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষার্থে ফেরোমন ফাঁদ ব্যাবহার করা হয়।এবং সারের ব্যাবহার নেই বললেই চলে।পচা কচুরিপানা এখানে সার হিসেবে কাজ করে।

Displaying received_954591682017415.jpeg

কিশোরগঞ্জ কৃষি গবেষনা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানান,’আমরা বারি হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া-২ ভাসমান বেডে চাষ করেছি।চমৎকার ফলন হয়েছে,আশা করছি কাঙ্খিত ফলন আমরা পাব।

আমরা ইতিমধ্যেই বেগুন এবং টমেটো হার্ভেস্ট করেছি।এর আগে করলা এবং লাউ হার্ভেস্ট করেছি।আমরা আশা করছি ভাসমান বেডে চাষাবাদ ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে।যেসমস্ত জলজ জায়গায় মানুষ কোন কিছু চাষ করতে পারে না সেসমস্ত জায়গায় আমাদের ভাসমান বেডে চাষাবাদ দেখে মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ৫০ জনের মত কৃষক ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছে।

Displaying received_712341436107033.jpeg

ড.মোহাম্মদ মহিউদ্দীন আরো জানান,প্রথমে এ চাষাবাদ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায় নি।তারপর আমরা কৃষকদের ট্রেনিং এবং মাঠ দিবসের মাধম্যে ভাসমান বেডে সবজি চাষ সম্পর্কে বুঝানোর পর ব্যাপক সফলতা ও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।ইতিমধ্যে সদর উপজেলার রশিদাবাদ,লতিফাবাদ,মহিনন্দ, করিমগঞ্জের সাতারপুর, পাঠানপাড়া, নিকলী উপজেলার গুরই এলাকার কৃষকরা ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে সফলতা পেয়েছে।তিনি আরো জানান,ভাসমান বেডে সবজি চাষ সম্পূর্ণ ঝুকিমূক্ত। কারন বন্যা হলেও এটা পানিতে ডুবে না।ভাসমান বেড তাই ভেসেই থাকে।বর্ষাকালে যখন কোন সবজি চাষের সুযোগ থাকে না, সবজির দামও বেশি থাকে, তখন ভাসমান বেডে সবজি চাষ করলে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে একদিকে অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করে অর্থ ও পাওয়া যায় অন্যদিকে বর্ষাকালে মাঠে কাজ থাকেনা বিধায় পরিবারের বেকার সদস্যদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।