মো: তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া : আগামী ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮ বিকাল ২ টা থেকে ঐক্যফ্রন্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করতে চলেছে। এই চাওয়ায় কারো কোন আক্ষেপ থাকার কথা নয়। বিচলিত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮তে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই নির্বাচনকে যদি প্রধান এবং একমাত্র ইস্যু ধরা হয় তাহলে জনসভার পরে নির্বাচনের জন্য অবশিষ্ট থাকে মাত্র ২ টি দিন।

কোন ক্রমেই এই নির্বাচন শুধুমাত্র ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এটি সারাদেশে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচন যে নির্বাচনে আগামী ৫ বছরের জন্য দেশের শাসন ব্যবস্থা কাদের উপর অর্পিত হবে সেটা নির্ধারণ হবে।

তাহলে চূড়ান্ত পর্বের মাত্র ২ দিন আগে সারাদেশ থেকে নেতা,কর্মী, শুভানুধ্যায়ী, রাজধানীতে ডেকে নিয়ে এসে কোন নির্বাচন প্রচারণা করা হবে সেটি বোধগম্য নয়। সারাদেশ থেকে আগত মানুষ সন্ধ্যার পরে ফিরে যাবে আবার তাদের নিজ নিজ এলাকায়।

নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে নেতা কর্মি উদগ্রীব হয়ে থাকে সাধারণের নিকটে যতটা যাওয়া যায়, যতটা তাদের বোঝানো যায়। তার জন্য সকল নেতা ও কর্মি যার যার এলাকায় অবস্থান একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট ২৭ ডিসেম্বর যে জনসভার ডাক দিয়েছে সেই ডাকের তাৎপর্য কি সেটা অনুধাবনীয়।

বিভিন্ন বিশ্লেষক, গবেষক বলছেন নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে নিজের নির্বাচনী এলাকা ছেড়ে ঢাকায় সমাবেশ শুধুমাত্র নির্বাচন প্রচারণা সেটা ভেবে নেয়া বোকামি হবে। তারা যে দিক গুলি প্রশাসনকে চিন্তা করতে অনুরোধ করছেন –

১। ঐক্যফ্রন্ট প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে সারাদেশে নির্বাচন প্রচারণায় কার্যত সক্রিয় ছিল না।

২। বিভিন্ন হামলা প্রতি হামলা গ্রেপ্তারের কথা বলে তারা একরকম প্রচারণা বিমুখ ছিলো এবং এখনও আছে। যা রীতিমত প্রশ্ন এবং শংকার উদ্রেক করে।

৩। নিজেরা নিজেদের কোন্দলের জের সরকারের কাঁধে এবং নির্বাচণ কমিশনের কাঁধে ফেলে ক্রমাগত দোষারোপ করে চলেছে।

৪। দেশে বিদেশে তারা বিভিন্ন ভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ বলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

৫। নির্বাচন প্রচারণায় মনোনিবেশ না করে নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পাহারা দেবার নামে কিছু একটা ইংগিত তারা পূর্বেই দিয়ে রেখেছে।

৬। আই এস আই এর সাথে তাদের বিভিন্ন অধ্যায়ের যোগাযোগ এবং বাংলাদেশ নির্বাচনে তাদের অবস্থান দেশে বিদেশে মিডিয়ায় প্রকাশিত।

৬। ড. কামালের সর্বশেষ হুমকি দেখে মনে হয়েছে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।

৭। সারাদেশ থেকে আগত জনগণ ২৭ তারিখের পরে নিজ এলাকায় রাতারাতি ফিরে যাবেতো?

৮। সারাদেশের মানুষ রাতারাতি ফিরে যাওয়ার নামে কোথায় কোথায় তাদের যাত্রা বিরতি হবে সেটা কেউ জানে?

৯। নির্বাচনের দিনে কেন্দ্র পাহারা দেবার কথা পূর্বে থাকলেও, নির্বাচনের পূর্বে তারা নিজ এলাকা ত্যাগ করে ঢাকায় কেন অবস্থান?

১০। নির্বাচনের দিনে বা তার ১ দিন আগে থেকে সারাদেশে প্রশাসন মানুষের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যদি কোন অংশে নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে যায়, সেই দুর্বল অংশের ব্যবহার হবে কি?

১১। নির্বাচনের ২ দিন আগে জনসভার নামে ঢাকা অবরুদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা এবং সেই পক্রিয়ায় সন্ত্রাসী কোন শক্তি তাদের সর্ব শক্তি নিয়োগের আভাষ আছে কি?

বিশ্লেষকগণ বেশ নিশ্চিত হয়েই বলছেন, ২৭ তারিখের নির্বাচনী সভা কোন নির্বাচনী প্রচারণা নয়। নিশ্চিত ভাবে সেটি একটি নির্বাচনের পূর্বে মরণ কামড়।

যেহেতু কোন প্রকার তথ্য উপাত্ত দিয়ে কেউ সাহায্য করবে না, সেহেতু আমরা ধারণা করতে পারি মাত্র। বিশ্ব মিডিয়া বলছে, কোন অবস্থাতেই তারেক রহমান হাল ছেড়ে দেবে না। যে কোন উপায়ে সে আই এস আই কে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রবেশ করবেই। যা রিতিমত ভিতির কারণ।

আশার কথা এটুকুই, বর্তমানে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পৃথিবীর যে কোন চৌকশ সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি। একি সাথে গোয়েন্দাগিরি যথেষ্ট শক্তিশালী। পুলিশ, বিজিবি যথেষ্ট শক্তিশালী। সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। নিশ্চয়ই তারা যে কোন অপশক্তি রোহিত করতে সক্ষম।

আমি দৃঢ় ভাবে বলছি, আমি এবং সকল বিশ্লেষক, গবেষকের উক্ত সকল ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হোক সেই কামনা করি।