সাইফুল ইসলাম : করোনা ভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা স্কুল ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হচ্ছে- বেসরকারি একটি সংস্থার জরিপে এমন চিত্র উঠে আসলেও সারাদেশে তাদের মোট সংখ্যা কত তার পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে৷

এর মধ্যে সরকার ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। স্কুল খুলে দেওয়া হলেও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখবে সরকার। কিন্তু অনেক অভিভাবক শিশুদের কোভিড সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত।

আসলেই কি ঝুঁকিতে পড়বে শিশুরা?

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-ইউসিএল এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন শিশুদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া এবং তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে পরিচালিত ৬৩৩২টি গবেষণা মূল্যায়ন করে দেখেছে।

এই দুটি প্রতিষ্ঠান যে তথ্য দিয়েছে তা হলো, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও প্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তির তুলনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৫৬% কম।

এছাড়া শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও মারাত্মক অসুস্থ হওয়া বা মারা যাওয়ার ঝুঁকিও তাদের কম। তবে বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি বোঝা কঠিন বলে মনে করেন হেলেনা বেগম।

“অনেক পরিবার বুঝতেই পারে না যে তাদের বাচ্চা কোভিড আক্রান্ত কিনা। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের কোনো উপসর্গ থাকে না,” বলেন এই শিশু বিশেষজ্ঞ।

আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াতে পারে কিনা তারও কোনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায় না।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন-ইউসিএল এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন করোনাভাইরাস সংক্রমণের ৩১টি ক্লাস্টারের উপর চালিয়ে দেখা গেছে, মাত্র তিনটি ক্লাস্টারে সংক্রমণ শিশুদের থেকে হয়েছে। অর্থাৎ শিশুদের থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর হার ১০%।

গবেষকদের ধারণা, যেহেতু শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার কম তাই তাদের থেকে অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও তুলনামূলক কম।