ওমর আলী সোহাগ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ২০১৬ সালে ঝিনাইদহে প্রতিষ্ঠিত হয় শেখ কামাল টেক্সটাইল ইঞ্জিয়ারিং কলেজ। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের বস্ত্র অধিদপ্তর কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত টেক্সটাইল ইঞ্জিয়ারিং কলেজ সারা বাংলাদেশে ৭টি আছে। তার মধ্যে শেখ কামাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ,ঝিনাইদহ একটি। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঝিনাইদহ মাগুরা মহাসড়কের সাথে আড়ুয়াকান্দি গ্রামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রথম। এই কারণে পোশাকখাতে বাংলাদেশের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। ভবিষ্যতে পোশাক শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে এই বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী চালু করে সরকার। প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত জনবল সংখ্যা ৭২টি থাকলেও বর্তমানে নিয়োগ রয়েছে ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ৪২৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১৭ সালে পাঠদান শুরু হয় এই প্রতিষ্ঠানে। করোনা দুর্যোগ শুরু না হলে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েট হয়ে বের হয়ে যেত। করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে পরীক্ষা। চলতি মাসের ১৮ তারিখ থেকে আবার ক্লাস শুরু হবে। তবে ক্যাম্পাস অপরিষ্কার অপরিছন্ন,ভবনগুলিতে মাকড়সার জাল বিছানো রয়েছে। জনবল সংকটের কারণেই এমন হয়েছে দাবি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপকদের। প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণির ৯ জন,দ্বিতীয় শ্রেণির ২জন,৩য় শ্রেণির ১৪ জন ও ৪র্থ শ্রেণির ২০ কর্মকর্তা রয়েছেন। ৮ একর জমির উপর নির্মিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪টি ভবন রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে ইয়ার্ন ইঞ্জিয়ারিং,ফেব্রিক্স ইঞ্জিয়ারিং,ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিয়ারিং ও অ্যাপারেল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগে বর্তমানে পাটদান করা হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশের পর জিপিএ ৩.৫০ এর উপরে থাকলেই ভর্তির আবেদন করা যায়। এর মধ্যে ৩টি হোস্টেল রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের জন্য। যার মধ্যে ২টি ছাত্র ও ১ ছাত্রীদের জন্য। গতবছর একাডেমিক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বেনামী অভিযোগ করা এই প্রতিষ্ঠানের ল্যাবের কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ চুরির। এই বিষয়ে ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে তদন্ত করতে আসেন। পরে তারা একটি প্রতিবেদনও জমা দেন। এই প্রতিষ্ঠানে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর অধ্যক্ষ হিসাবে অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগ হন সহকারী অধ্যাপক মোঃ ফিরোজ খন্দকার। তিনি জানান, আমি যোগদানের পূর্বে বেনামী একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল।সেটার তদন্তও হয়েছে। এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় কোন আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা তিনি জানাতে পারেননি। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৪জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৭২টি জনবলের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে ৪৫ জন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে একটি যানবাহন থাকলেও ড্রাইভার নেই। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে নিরাপত্তা কর্মীরা লুঙ্গি পরেই ডিউটি করেন। ঝিনাইদহ শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় অনেকটা খোঁজখবর বিহীন চলে এই প্রতিষ্ঠান। কোন কর্মকর্তা কর্মচারী ঠিক রকম দায়িত্ব পালন করছে কিনা গণমাধ্যম ও একাডেমিক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ফাহাদ মাহমুদ জানান,নতুন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই এখনও অবিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি। এই কারণে কিছু ত্রুটি দেখা দেয়। তবে এই প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেও অনেকেই বেনামে কেন্দ্রে অভিযোগ করে। যার আসলে বাস্তবে ভিত্তি নেই। অধ্যক্ষ ফিরোজ খন্দকার গণমাধ্যম কর্মীদের অভিযোগ ওঠা কম্পিউটার ল্যাব দেখাতে নিয়ে যান। বাইরে থেকে দেখে প্রত্যেক টেবিলেই সঠিক অবস্থানে আছে বলে মনে হয় তাৎক্ষণিকভাবে। ক্যাম্পাসে কোন কোলাহল নেই।সুনসান নিরবতা। গেটেই দেখা লুঙ্গি পরে ডিউটি করছেন এক নিরাপত্তা কর্মী। বাইরের লোকজন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে না। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নেই কোন রাজনৈতিক সংগঠন। তবে অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটি রয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ ফিরোজ খন্দকার। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য একজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কারণে অনেক অব্যবস্থাপনা আছে।