জাতীয় “দৈনিক এই আমার দেশ” পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কাজী ওহিদুল ইসলামের সাথে এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা মুহাম্মদ ফারুক খান মহোদয় জানান,আমার ঢাকা কলেজের বন্ধু ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ছিলেন একজন উদ্যমী সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত সেনা অফিসার, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শিলিগুড়ির মূর্তি ক্যাম্পে প্রশিক্ষন নিয়ে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে কমিশন পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে কমিশনপ্রাপ্ত ৬১ জন চৌকশ সেনা অফিসারদের মধ্যে শেখ কামাল ছিলেন অন্যতম। প্রথম ওয়ার কোর্সের প্যারেডে ওপেন অর্ডার ফরমেশনে দাঁড়ানো অফিসারদের একটি ছবিতে প্রথম সারির সর্ববামে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন টগবগে তরুণ অফিসার, বড় একজোড়া গোঁফ, স্টাইলিশ কালো ফ্রেমের চশমা, মেদহীন সুঠাম দেহ আর আত্মবিশ্বাসী চাহনিতে চোখে পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে ক্যাপ্টেন শেখ কামালকে।

শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে যেমন অস্ত্র তুলে ধরেছেন, ঠিক তেমনি সংগীত, নাটক, ক্রীড়া, সামাজিক কাজেকর্মে তিনি ছিলেন সবার অনুকরণীয়। সবসময় শেখ কামাল ছিল “An Officer Leading From The Front”। ১৯৪৯ সালের ৫ই আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ ছেলে শেখ কামাল । বহুমাত্রিক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী, তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক শহীদ শেখ কামাল ঢাকা শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ অনার্স পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ‘ছায়ানট’-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন ঢাকা থিয়েটার এবং উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা । সেই সময়ের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠীরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। শহীদ শেখ কামাল দেশে নান্দনিক ফুটবল ও ক্রিকেটসহ অন্যান্য দেশীয় খেলার মান উন্নয়নে অক্লান্ত শ্রম দিয়ে অপরিসীম অবদান রেখে গেছেন। নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ প্রখ্যাত অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সাথে তার বিয়ে হয়। তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে, তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালোরাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে, বঙ্গবন্ধুর পুরো পরিবারের সাথে শাহাদাত বরণ করেন।