নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দীর্ঘদিন পদোন্নতি ঝুলে থাকায় ফুঁসে উঠেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। বিসিএস (কাস্টমস) ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের এসব সহকারী কমিশনারকে উপ কমিশনার পদে পদোন্নতি দিতে ডিপিসির ৫০ দিনেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় গেজেট হয়নি। এতে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে সরকারের রাজস্ব আদায়ে অগ্রনী ভূমিকা পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে।
জানাগেছে,বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থায় থাকা কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) একযোগে দেশের ৩৪ কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘ ৯ বছরেও পদোন্নতি না পাওয়ায় নিজেদের মাসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা কমিশনারদের জানান। দ্রুত পদোন্নতির ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে কমিশনারদের কাছে সহকারী কমিশনারদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত একাধিক সহকারী কমিশনার ডেল্টা টাইমসকে জানান, কমিশনাররা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন পদোন্নতির বিষয়টি নিয়ে তারা এনবিআরএর চেয়ারম্যান ও কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সুরাহা করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী কমিশনার জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতির গেজেট প্রকাশ করা না হলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

জানাগেছে,৩১তম ব্যাচের ৯১ জন সহকারী কমিশনার রয়েছেন পদোন্নতি বিষয়টি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আটকে রেখেছে। এতে সহকারী কমিশনারদের মধ্যে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। পদোন্নতি না হওয়ার ফলে সততা, দক্ষ, পরিশ্রমী,মেধাবী, কৌশলী ও বিচক্ষণতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করা সহকারী কমিশনারদের দৈনন্দিন কাজেও এর ছাপ পড়ছে। বিশেষ করে এ পদোন্নতি না পাওয়ায় তারা পারিবারিক,সামাজিক চাপে পড়ছেন। অনেকে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন।

৩১তম ব্যাচের অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা বেশ আগেই পদোন্নতি পেয়েছেন। পুলিশসহ অন্যান্য ক্যাডারের একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয়ে গেছে। একই ব্যাচের অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হওয়ায় এবং সময়মতো পদোন্নতি না পাওয়ায় কাস্টমস ক্যাডারের এসব কর্মকর্তা সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করে ৩১তম ব্যাচের এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার পদে ৯১ জন যোগদান করি। ৫ বছর পর নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি হওয়ার কথা। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পদোন্নতির ফাইল আটকে থাকায় পারিবারিক, সামাজিক ও দাফতরিকভাবে আমরা মর্যাদার সংকটে ভুগছি। এতে করে মানসিক যন্ত্রণার পাশাপাশি কর্মদক্ষতা কমছে এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দ্রুত পদোন্নতি দিতে ইতোমধ্যে উপ কমিশনারের ৫৩টি ‘সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টি)’ পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির অনুমোদন দেন।

এরপর গত ৯ আগস্ট অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। তবে যাচাই শেষে ৮৭ জনকে উপ কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ২৬ আগস্ট পদোন্নতি দিতে ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটি (ডিপিসি) হলেও অজ্ঞাত কারণে গেজেট না হওয়ায় সহকারী কমিশনারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত ৯ আগস্টের ওই আদেশে বলা শর্তের মধ্যে রয়েছে-জারির তারিখ থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে। সুপারনিউমারারি উপ কমিশনারের পদগুলো পর্যায়ক্রমে সমন্বয় করতে হবে। পদোন্নতি বা অবসরজনিত কারণে উপ কমিশনারের পদগুলো শূন্য হলে সমসংখ্যক সুপারনিউমারারি উপ কমিশনারের পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০০৩ সালের ৩ মে জারি করা আদেশ অনুসরণ করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগের সম্মতি, প্রশাসনিক উন্নয়র সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমোদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে আদেশে বলা হয়। এই আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের চীফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যাস অফিসারকে অনুরোধ করা হয়।