নিতিশ সানা, কয়রা,খুলনাঃ খুলনার কয়রা উপজেলার লবণ পানির মাছের ঘেরের বেড়ি হিসেবে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করায় উপজেলার প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ শতাধিক পাকা ও ইটের সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। এসব সড়কে যান চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এ কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এলাকার মানুষকে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কয়রা-খুলনা সড়কটিও। মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীরা সরকারি রাস্তাগুলো ঘেরের বেড়ি হিসেবে ব্যবহার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ঘেরের ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে আলাদা বেড়ি করার নিয়ম থাকলেও তা কেউ মানছে না।

এছাড়া সরকারি খালের পানি নিষ্কাশন পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছের ঘের করায় এ উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ধান আবাদ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি হাজার হাজার হতদরিদ্র পরিবার বিলে মাছ শিকার করতে পারছে না।

লবণ পানির ঘের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সরকারি রাস্তা ঘেরের বেড়ি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন মানুষকে আরো ভোগান্তির শিকার হতে হবে। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) এাসব বিষয় উঠে আসে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়। ১১টায় উপজেলা পরিষদ মম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার কয়রা সদর, বাগালী,আমাদী, মহারাজপুর ইউৃনিয়নের চেয়ারম্যান সহ বেশকয়েকজন বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, লবণ পানির ঘেরের কারণে তাঁর ইউনিয়নের ওয়াপদার বেড়ীবাঁধগুলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সরকারি খালের পানি নিষ্কাশন পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অবৈধ নেট-পাটা দেয়ায় ভোগান্তি হচ্ছে কৃষকদের। এর আগে একই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে উপজেলার সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। তার পরেও ঘর মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ-আল মামুন বলেন,লবন পানির ঘের মালিকরা সড়ককে বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করে মাছ চাষের ফলে সড়ক ভেঙে যাচ্ছে। সড়ক থেকে দূরে ছয় পৃথক বেড়ি নির্মাণ করে মাছ চাষের জন্য বলা হলেও ঘের মালিকরা তা মানছে না। এসব সড়কের দুই পাশে ঢাল না থাকায় ও ঘের মালিকরা পানি না কমানোর কারনে ঠিকাদাররাও সংস্কার করতে চায় না। বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার পাড় বলেন, ঘের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সরকারি রাস্তা ঘেরের বেড়ি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন মানুষকে আরো ভোগান্তির শিকার হতে হবে।ঘের মালিকদের দখল করা সরকারি খাল শিগগিরই দখলমুক্ত করারও দাবি জানান তিনি।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কপোতাক্ষ নদ থেকে অবৈধ বালু উত্তলন বন্ধ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি খালগুলোতে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণ এবং এখন থেকে যেসব ঘের মালিক সড়কের পাশে আলাদা বেড়ি না করে ঘের তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ঘেরসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা রয়েছে। এখন আর ঘের মালিকরা ইচ্ছামতো ঘের চালতে পারবে না। এখন থেকে যেসব ঘের মালিক সড়কের পাশে আলাদা বেড়ি না করে ঘের তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে সকলকে সুনিদিষ্ট তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য কয়রা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আহবান জানান কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ শাহাদাত হোসেন। কয়রা উপজেলায় গত অক্টোবর মসে খুন ২টি, ধর্ষন ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১টি, অস্ত্র মামলা ২টি, মাদকদ্রব্য ৬টি এবং অন্যান্য আইনে ১৫টি সহ মোট ২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। উপজেলার সেপ্টেম্বর ২০১৯ মাসে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ২০ টি। কয়রায় গত মাসের তুলনায় ৭টি মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এসএম শফিকুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম, উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ সহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।