হিমানির বয়স তখন মাত্র ১৬ বছর। চোখের সামনে মেয়েকে নিয়ে দেখা সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল মা-বাবারও। ভেবেছিলেন, মেয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

২০১১ সালে একটি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন তিনি। তখন থেকেই দু’চোখে প্রায় দেখতে পান না। অনেক চিকিৎসার পর মোটা কাচের চশমা পরে দৈনন্দিন কাজকর্ম যদিও চালাতে পারেন এখন।

সেই মেয়েই সম্প্রতি কয়েক মিনিটে কোটিপতি হয়ে গেলেন! কেবিসি ১৩-র প্রথম কোটি টাকা জয়ী তিনি। একটুর জন্য ৭ কোটি টাকা জেতার সুযোগ হারিয়েছেন।

ভারতের আগ্রার মেয়ে হিমানি। তিনি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের একটি স্কুলে অংকের শিক্ষিকা।

সম্প্রতি কেবিসি সিজন ১৩-র একটি এপিসোডে অমিতাভ বচ্চনের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। একটার পর একটা কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে এক কোটি টাকা জিতে নেন হিমানি।

শেষ যে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি কোটিপতি হয়েছেন, তার জন্য কোনও লাইফলাইন ব্যবহার করেননি তিনি। নিজেই উত্তর দিয়েছিলেন।

সঞ্চালক বিগ বি তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের গুপ্তচর হিসেবে ফ্রান্সে থাকাকালীন নুর ইনায়েত খান কী ছদ্মনাম নিয়েছিলেন?” প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেন তিনি।

এই খেলার নিয়ম অনুযায়ী, পরের রাউন্ডেই সাত কোটি টাকার প্রশ্ন করা হয় প্রতিযোগীকে। কিন্তু ঝুঁকি নেননি হিমানি। সাত কোটি টাকার রাউন্ডটি খেলতে চাননি।

এই বিপুল অংকের টাকা দিয়ে নিজের স্বপ্নপূরণ করতে চান হিমানি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি কোচিং সেন্টার খুলতে চান। সেই সমস্ত শিশুকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির জন্য তৈরি করতে চান।

মহামারীতে চাকরি হারানো বাবার জন্য বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করতে চান। তার জন্য একটি ব্যবসার কথা ভেবেছেন হিমানি। ভাই-বোনদের ভবিষ্যতের জন্য মোটা অংকের টাকা ব্যাংকে জমা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। আর নিজের জন্য? হিমানির কথায়, ‘‘পরিবারই আমার সব কিছু। ওদের জন্য কিছু করতে পারলেই আমার ভাল লাগবে।”

ডান চোখে একেবারেই দেখতে পান না হিমানি। বাঁ চোখে যেটুকু দৃষ্টিশক্তি ছিল, তাও ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন। বহু দিন হল বাঁ চোখে গ্লুকোমা ধরা পড়েছে। চিকিৎসা চলছে। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই পরিবারের।

হিমানি কিন্তু দিব্যি বাঁচেন। তার মতো অন্যদেরও বাঁচার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যান। মুখে সব সময় হাসি। ক্লাসে ছাত্রদেরও হাসতে শেখান তিনি।

সূত্র: আনন্দবাজার