আব্দুল আলীম প্রামানিক, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। ক’দিন পরেই সরকারি খাদ্য গুদামে ধান-চাল সরবরাহের ঘোষণা আসবে। চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় চলতি মৌসুমে খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করতে চালকল মালিকদের মাঝে আগ্রহ নেই। গঙ্গাচড়ায় ৭৬টি চাল কল মালিকের কেউ এখন পর্যন্ত চাল সরবরাহে সরকারের সাথে চুক্তি করেননি। এতে সরকারি লক্ষ্য অনুযায়ী চাল সংগ্রহ করা এ বছর কষ্ট সাধ্য হবে বলে আশংকা রয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে সরকারি গুদামে সংগ্রহের জন্য চালের দাম কেজি প্রতি ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহের জন্য অফিসিয়ালভাবে এখনো তাদের কাছে কোনো চিঠি না আসায় চাল নেয়া শুরু করতে পারেননি। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে বলে মনে করছেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা। তবে বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ায় চালকল মালিকদের সরকারি গুদামে চাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) সাবিহা সুলতানা বলেন, গঙ্গাচড়া উপজেলায় এবার ৬৭৬ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে। উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী বলেন, আসন্ন আমন চাল সংগ্রহ মৌসুমে চাল কল মালিকদের সরকার নির্ধারিত দরে চাল দেয়া সম্ভব নয়। কারণ এ মৌসুমে এ এলাকায় ধানের উৎপাদন বেশি হয়। যার কারণে ধানের মূল্য বেশি হওয়ায় বাজারে চালের মূল্য বেশি থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা। এর থেকে কম দামে চাল গুদামে দেয়া সম্ভব হবে না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার শিংহ রায় জানান, বাজারে চালের দাম বেশি থাকায় গত বছর কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এবারও বাজার দর বেশি হওয়ায় চাল সংগ্রহ নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে এ মৌসুমে চাল সংগ্রহ সরকারিভাবে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তিনি আরও জানান, গত বছর বোরো মৌসুমে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর চাল সরবরাহ না করায় ১২ জনকে কালো তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বছর চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত বরাদ্দের চাল সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে