আব্দুল আলীম প্রামানিক, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ আলুর দরপতনে হিমাগারে আলু রেখে বিপদে পড়েছেন গঙ্গাচড়ার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা হিমাগারেই আলু রেখে যেতে হবে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, অনেকেই বাড়তি আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখেন মুনাফার জন্য। এতে তাদের বাড়তি খরচও হয়। তাছাড়া ব্যবসায়ীরাও আলু কিনে কোল্ড স্টোরেজে রাখেন। আলুর তোলার মৌসুমে এক বস্তা আলুর দাম ছিল ১ হাজার টাকা। সেই আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখায় প্রতি বস্তায় (৬৫ কেজি) বাড়তি খরচ হয় ২৭০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন খরচ। কিন্তু বর্তমানে বাজারে এক বস্তা এস্টারিক্স জাতের আলু (৮৮ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অন্যান্য জাতের আলুর দাম আরো কম। দুই তিন বছর আগেও এরকম অবস্থা হয়েছিল বলে কৃষকরা জানান। লোকসানের কারণে তখন কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা শেষ পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করেনি। ফলে সে সময় কোল্ড স্টোরেজ মালিকরাও লোকসানের সম্মুখীন হয়। এ বছরও একই অবস্থা হবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। আলুর উত্পাদন ভালোই হয়েছিল। আলু বিক্রি করে ধার-দেনা পরিশোধ করবে এই আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আশা করে কোল্ড স্টোরেজে আলু রেখেছিলেন।

হাবু কুটিরপাড় গ্রামের কৃষক আফসারুল বলেন, তিনি ৫ একর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সব আলু (প্রায় ৮০০ বস্তা) কোল্ড স্টোরেজে রেখেছিলেন। মৌসুুমের সময় ১ হাজার টাকা বস্তা দাম উঠেছিল। বিক্রি না করে কোল্ড স্টোরেজে রেখেছিলেন। সেই আলুুর এখন দাম প্রতি বস্তা সাড়ে ৮০০ টাকা। বস্তাপ্রতি তার লোকসান হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। গজঘণ্টা ইউনিয়নের আলু ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন বলেন, গঙ্গাচড়াস্থ এমএনটি কোল্ড স্টোরেজে তিনি ২ হাজার ২০০ বস্তা আলু রেখেছেন। বস্তাপ্রতি তার লোকসান হচ্ছে প্রায় ৫০০ টাকা। অনেক ব্যবসায়ী হাজার হাজার বস্তা আলু রেখেছেন। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর সরকার আলু রপ্তানির কারণে আলুর দাম বেড়েছিল। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছিল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, এ বছর আলুর উত্পাদন বেড়েছে। আর কৃষকরাও আলু সংরক্ষণ করেছে বেশি। তাছাড়া এ সময় বাজারে অন্যান্য সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় আলুর দাম কমে গেছে। সরকার এই মুহূর্তে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করলে কৃষকরা আলুর দাম পেত।