স্বপন আলী, মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩), স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (০৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনেকেই কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ওয়ার্ড পর্যায়ে ও বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়নের কর্মপন্থা নির্ধারিত থাকলেও সে বিষয়ে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন অজুহাতে ওয়ার্ড কমিটি (ডাব্লিউ সি), স্কিম সুপারভিশন কমিটি (এসএসসি), দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব জহুরুল ইসলাম। স্কিম তত্ত্বাবধান কমিটির তালিকা নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গানোর নির্দেশনা থাকলেও তার দেখা মেলেনি।

ষোলটাকা ইউপি সচিব জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে মৌখিকভাবে পাওয়া ৫ সদস্যের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য (ইউএনও কর্তৃক মনোনীত) উপজেলা এলজিইডি অফিসের সার্ভেয়ার আখতারুজ্জামান জানান, তিনি এ কমিটির সদস্য, তবে দরপত্র ও মালামাল ক্রয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না। ষোলটাকা ইউনিয়ন পরিষদের ১,২ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যা ও কার্যক্রম বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যা রাশেদা খাতুন জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। ইউপি সচিব জহুরুল ইসলাম তার বাড়িতে এসে কেবলমাত্র কয়েকটি চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। কোন বিষয়ের চেকে স্বাক্ষর করায়ে নিয়েছেন এ বিষয়ে কোন কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) প্রকল্পের কর্মপন্থায় উল্লেখিত কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ছাড়া কিভাবে বিল উত্তোলন করা হয়েছে? এমন প্রশ্নেরও সদুত্তর পাওয়া যায়নি ইউপি সচিব জহুরুল ইসলামের কাছ থেকে। এ প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করনের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহ্বায়ক, উপজেলা পর্যায়ের ৪ জন কর্মকর্তা সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক মনোনীত ৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত রিসোর্স টিমের উল্লেখ থাকলেও তার কোন কার্যকারিতা চোখে পড়েনি। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদে সফলভাবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং তা যথাযথভাবে মনিটরিং এর জন্য প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে সভাপতি, উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সদস্য ও এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলী/ সহকারী প্রকৌশলীদের সদস্য সচিব করে ব্লক গ্র্যান্ড কো-অর্ডিনেশন কমিটি (বিজিসিসি) গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। এ কমিটির সভায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার বিশেষভাবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিজিসিসি সভায় উপস্থিত থাকবেন মর্মে নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়টিরও বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়।

যেখানে (ডব্লিউ সি) কমিটি থেকে শুরু করে (বিজিসিসি) কমিটির বাস্তবায়ন সঠিকভাবে প্রতীয়মান হয় নাই, সেখানে ক্রয়কৃত মালামাল ও কাজের মান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সুশীল সমাজ ও এলাকাবাসীর। বিজিসিসি কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মৌসুমী খানম জানান, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।