তাজুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ করোনা ও অর্থাবের কারণে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহরের হোসিয়ারী শিল্পের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শীতবস্ত্র বিক্রয় এদের মূল বেচাকেনার মৌসুম হলেও গত মৌসুমের প্রচুর শীতবস্ত্র অবিক্রিত থাকায় ওই এলাকার প্রায় ৫০টি গ্রামের ২ হাজার ক্ষুদ্র হোসিয়ারী শিল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসান দিতে হয়েছে। উলে¬খ্য, এখানকার বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদিত শীতবস্ত্র শীত মৌসুমে শুধু দেশের চাহিদা মেটায় না বরং তা বিদেশেও রপ্তানী হয়। কিন্তু করোনার কারণে বাইরের বাজার থেকে গ্রাহক না থাকায় এখানকার উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ নিয়ে তারা দুর্চিন্তায় পড়েছে। এবারে শীতবস্ত্রে ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্খা করছেন ব্যবসায়িরা । ব্যবসায়িদের মতে বিভিন্ন কারখানায় গত বৎসরের শীত মৌসুমে তৈরী পোষাক প্রায় ১শ’ কোটি টাকারও বেশী মূল্যের শীতবস্ত্র গুদামজাত হয়ে পড়ে রয়েছে।

এদিকে অধিকাংশ কারখানা মালিক করোনা ও অর্থ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক এখন বেকার হয়ে পড়েছে।

হোসিয়ারী শিল্প কারখানা ভিত্তিক সংগঠন ‘নয়াবন্দর কুটির শিল্প এসোসিয়েশনে’র সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, কোচাশহর ইউনিয়নের নয়ারহাট হোসিয়ারী শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র। এখানে প্রায় আড়াই শ’ শীতবস্ত্রের দোকান রয়েছে। প্রত্যেক দোকান মালিকের রয়েছে নিজস্ব কারখানা। এসব দোকানে এখন লাখ লাখ টাকার মালামাল আটকা পড়ায় পুঁজি সংকটে পড়েছে কারখানা মালিকরা।

জানা গেছে, কোচাশহর ইউনিয়নের বনগ্রাম পেপুলিয়া, মুকুদপুর, ধারাইকান্দি, রতনপুর, ছয়ঘড়িয়া, জগদীশপুর, শক্তিপুর, কোচাশহর ও নয়ারহাটসহ অর্ধ শতাধিক গ্রামে ২ হাজারের বেশী হোসিয়ারী কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় সোয়েটার, কার্ডিগান, ব¬াউজ, মাফলার, মোজা, ছোটদের পোষাকসহ বিভিন্ন ধরণের শীতবস্ত্র তৈরী হয়। পশমী সুতায় তৈরী এসব শীতবস্ত্র ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ দেশের সর্বত্র সরবরাহ করা হয়।