তাজুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গোবিন্দগঞ্জে বির্স্তীণ মাঠ এখন সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা সবুজ প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। দৃষ্টি জুড়ে এখন সবুজ ধানের প্রান্তর। প্রতিটি মাঠ এখন কৃষকের সবুজ স্বপ্নে ছেঁয়ে গেছে।

উত্তরের খাদ্য শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠের বুকে এখন সবুজের সমারোহ। দিগন্তজুড়ে যে দিকে তাকাই শুধু সবুজ আর সবুজ। সবুজের সমারোহে চোখ জুড়িয়ে যায়। আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।
গাইবান্ধা জেলার খাদ্যশস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত গোবিন্দগঞ্জের মাঠগুলো এখন কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, এবারে আমন মৌসুমে উপজেলার ১টি পৌর ও ১৭টি ইউনিয়নে ৩১হাজার,৬হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি আমন মৌসুমে অন্য বছরের তুলনায় বন্যা ও বৃষ্টি কম হওয়ায় এবারে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমন চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জের বেশ কিছু এলাকা বন্যাদুর্গত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হলেও এবার এখন পর্যন্ত বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা এবার আমন চাষকে সৌভাগ্য হিসেবে মনে করছেন। গাইবান্ধা জেলার খাদ্য উৎপাদনে শীর্ষে থাকবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা।

এ ব্যাপারে উপজেলার নিচু এলাকার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায় অন্যান্য বারের তুলনায় এবার আমরা অধিকহারে আমন ধান চাষ করেছি। আশা করছি, এবার আমন ধানে বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলার পশ্চিমে কয়েকটি ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, ধান গাছে সময়মতো পানি পাওয়ায় এখন গাছ সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। চারিদিকে যেন সবুজের সমারোহ। যেদিকে তাকাই দৃষ্টি যেন জুড়িয়ে যায়। এবার ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে আমরা অনেক উপকৃত হব এবং বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছি।

উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমন ধান চাষে কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন এবং কৃষকরা যেন আমন চাষে কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। যেখানেইসমস্যা সেখানেই আমাদের উপস্থিতি এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।এবং সার্বক্ষন কৃষককে পরার্মশ দিয়ে আসছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই-মাহামু বলেন, অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোথাও তেমন মাজড়া পোকার ও অন্যান্য রোগ বালাইয়ের আক্রমণ নেই। ফলে আমরা আশা করছি, এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে।