তাজুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোরো চাষীরা এখন ভীষন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষাবাদের কাজ পুরোদমে শুরম্ন হয়েছে। অন্য কোন কাজের দিকে তাদের আর নজর নেই। জমিতে হাল চাষ দেয়া,জমির আইল বাঁধাসহ বীজতলা থেকে চারা তুলে জমি রোপন করার কাজে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। শত ব্যস্ততা অপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠেই তারা বিরামহীন ভাবে কাজ করছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ১ টি পৌরসভা সহ ১৭ টি ইউনিয়নে এবার ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ইরো-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোস্তাফিজুর জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বালাই দমন সহ নানা রকমের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, দফায় দফায় কৃষি উপকরনের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে আমন ধানের দর পতন ঘটায় অধিকাংশ কৃষকের মাথায় রয়েছে ঋণের বোঝা।লোকসানের বোঝা মাথায় রেখে চলতি ইরি-বোরো আবাদের খরচ জোগার করতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলার বোরো চাষিরা। বিশেষ করে বাজারে আমন ধানের দর পতন ঘটায় চরম অর্থকষ্টে ভুগছেন তারা। তাই গেল আমন মৌসুমে নানা প্রতিকূলতার মোকাবেলা করলেও ব্যয়বহুল বোরো আবাদ নিয়ে তারা বেজায় চিন্তিত।

কৃষকেরা আরো জানান, ঘরে আমন ধান থাকলেও তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। মিল মালিকেরাও ধান কিনছেন না। কিছু কিছু ফরিয়া ও মহাজন ধান কিনতে চাইলেও দাম বলছেন অনেক কম। ইরি-বোরোর চলতি ফসলের খরচ জোগাতে বাধ্য হয়ে ধান, আলুসহ ক্ষেতে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দামে।