গোবিন্দগঞ্জ(গাইবান্ধা) থেকে তাজুল ইসলাম প্রধান ঃ আগামী ৩০ জানুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে ঘিরে সর গরম হয়ে উঠেছে পৌরসভার জনপদ।মার্কায় ছেয়ে গেছে শহর, চারদিকে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। এ নির্বাচন নিয়ে চায়ের কাপে উঠে গেছে ভোটের ঝড়। পৌর এলাকার সর্বত্র একটাই আলোচনা কে হচ্ছেন গোবিন্দঞ্জের পৌর পিতা ? এবার গোবিন্দগঞ্জে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের মো.খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপির ফারুক আহম্মেদ (ধানের শীষ),স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মুকিতুর রহমান রাফি (নারিকেল গাছ),ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আনিছুর রহমান (হাত পাখা) স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরা খাতুন আনিকা মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যে পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকার আনাচে-কানাচে শুরু হয়ে গেছে ভোটের আলোচনা। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কে হবেন পৌরপিতা সেই হিসেব। মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই বাছাই শেষে গত ১১জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী আলোচনা ব্যাপক মাত্রা পেয়েছে।

৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা। পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ হাজার ৯শত ৭৯ জন। এবার মেয়র পদে লড়ছেন ৫জন,সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর পদে ১২জন, সাধারন ওয়ার্ডের কাউন্সির পদে ৪১জন প্রার্থী।পৌষের এ হাড় কাঁপানো এ শীতকে হার মানিয়ে গত কয়েকদিন ধরে পুরো দমে জমে উঠেছে পৌর নির্বাচনের আমেজ।ভোটারদের কাছে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বলে মন জয় করার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রচারনায় নেমে পড়েছেন এবং পৌর এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রæতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দিচ্ছেন ডজন ডজন প্রতিশ্রæতি।

প্রচারণায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজ সেবক, কৃষক সংগঠক বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের কার্য নির্বাহী সদস্য ও উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা ডিজিটাল ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর মনোনীত মেয়র প্রার্থী। আর এই নৌকা মার্কা নিয়ে পৌরবাসীর দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি এবং এতে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি।তিনি বলেন,ইতিপূর্বে আমি এ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি ও আওয়ামী অঙ্গ সংগঠন কৃষকলীগ ছাড়াও অন্যান্য সামাজিক সংগঠন নিয়ে কাজ করার সুবাদে পৌরসবাসীর সাথে আমি দীর্ঘদিন ধরেই কানেক্টেড রয়েছি যারফলে যেখানেই নৌকা প্রতীক নিয়ে যাচ্ছি সেখানেই সাড়া পাচ্ছি, আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

এদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজ সেবক গোবিন্দগঞ্জ পৌর বিনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন,আমি সবসময় গোবিন্দগঞ্জ পৌরবাসীর বিপদে আপদে পাশে আছি, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংগঠন বিএনপির ধানের শীষ মার্কা নিয়ে আমি নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি এবং আমার দলীয় নেতা কর্মিরাও প্রচারণা চালাচ্ছে এতে ভোটারদের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি।তিনি বলেন দেশে নির্বাচন ব্যাবস্থায় চরম সংকট চলছে,অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়না,সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনা তবে এবার যদি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে এবং ভোটাররা যদি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে তাহলে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অপরদিকে,স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে শক্ত অবস্থান নিয়ে রয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুকিতুর রহমান রাফি।রাফি বলেন আমি বন্যা, খরা ও করোনাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ যেকোনো সংকট মহূর্তে বিপদে-আপদে আমি গোবিন্দগঞ্জ পৌরবাসীর পাশে রয়েছি।পৌরসভার তরুণদেরকে মাদক থেকে ফিরিয়ে রাখতে খেলাধুলার দিকে উৎসাহিত করতে তরুণদের নিয়ে কাজ করেছি তার প্রতিদানস্বরূপ গত উপজেলা নির্বাচনে পৌরবাসী আমাকে বিপুল পরিমাণে ভোট দিয়েছিল।এ নির্বাচনে আমি পৌরবাসীর আহ্বানেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছি।নারিকেল গাছ প্রতীকে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অপর ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পৌরসভায় প্রচারণা চালাচ্ছে এবং দলীয় নেতা কর্মিরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরা খাতুন আনিকা মোবাইল মার্কা নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।