তাজুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের হাট-বাজারে প্রভাব ফেলতে পারেনি চাল। দাম রয়েছে আগের মতোই। অপরদিকে মাত্র ১৫ দিন আগেও প্রতি কেজি ৫৬ টাকায় বিক্রি হলেও হঠাৎ করেই এখন ৮০-৮৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে ভোজ্যতেলের দাম যে কয়েক দফা বেড়েছে, তা আর কমের দিকে যাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সবজির দামও কিছুটা বেড়েছে। সবমিলিয়ে গোবিন্দগঞ্জে নিত্যপণ্যের বাজার এখন টালমাটাল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। কখন কোন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে তা বলতে পারছেন না কেউ।

জানা গেছে, ভোজ্যতেল সয়াবিনের বাজারে আপাতত কোনো সুখবর নেই। প্রতি সপ্তাহে তেলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বৃদ্ধি করছে কোম্পানিগুলো। বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেল তীর প্রতি ৫ লিটার ৬২০ টাকা, বসুন্ধরা (৫ লিটার) ৬২৫ টাকা, ফ্রেস (৫ লিটার) ৬১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। থেমে নেই খোলা সয়াবিন তেলের দামও। তা বর্তমানে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহের জন্য গেলে দোকানিরা দাম কম করে বলেন, এমন অভিযোগও রয়েছে ক্রেতাদের। এদিকে পেঁয়াজের বাজার আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এই দাম বেড়েছে ৭-৮ টাকা করে। বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত থাকা সত্ত্বেও কোনো কারণ ছাড়াই নতুন করে মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতারা অস্বস্তিতে পড়েছেন। অন্যদিকে ভারত থেকে চাল আমদানির পরও বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। শনিবার (সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের গোলাপবাগ হাট সহ কয়েকটি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, তারা ভেবেছিলেন বাজারে ভারতীয় চাল এলে দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে। কিন্তু তাদের সে ভাবনার উল্টোটা হয়েছে। কারণ ভারতীয় বাজারে হঠাৎ করে চালের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার চাল বাজারের জনৈক চাল বিক্রেতা (আরৎ মালিক) জানান, বর্তমানে তারা মিনিকেট (প্রতি ৫০ কেজির বস্তা) ২৭০০-২৭৫০ টাকায় বিক্রিয় করছে। এবং আমদানিকৃত চাল ৫২-৫৩ টাকা দরে পাইকারি বাজার থেকে ক্রয় করছেন এবং খুচরা পর্যায়ে ৫৫-৫৮ টাকায় বিক্রি করছেন। মিনিকেট সরু ৬২ টাকা, মাঝরি মানের ৫৮ টাকা, বাসমতি ৬৩ টাকা, ভালো মানের ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

কাটাবাড়ী বাগদা বাজারের কয়েক জন জানান, মাসে তার ৮ লিটার ভোজ্যতেলের প্রয়োজন হয়। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৮ লিটারের পরিবর্তে ৫ লিটার তেল কিনেছেন। বাকিটা পরে কিনবেন।উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করেন এমন কয়েকজন দিনমজুরের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না।