তাজুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ বন্ধকীর নামে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। কোন ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি বাজারে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে স্বর্ণ বন্ধকীর নামে রমরমা সুদের ব্যবসা করে অনেকেই রাতারাতি কোটি পতি বনে গেছে বলে জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর অলংকার তৈরীর নিজস্ব কোন সরমঞ্জাদি ও কারিগর নেই। অলংকার তৈরির বাহারি ডিজাইনের সাইন বোর্ড টাঙিয়ে স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা সুদের ব্যবসা।আবার কিছু ব্যবসয়ীর নিজস্ব জুয়েলার্স থাকলেও সেখানে স্বর্ণ বন্দকীর নামে দিন কিস্তির কারেন্ট সুদের ব্যবসা। কিছু কিছু জায়গায় জুয়েলার্সের দোকানটি সুদের অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার হয়। শুধু তাই নয়, কিছু অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গ্রাহকদের সাথে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারনা করছেন। অনেক ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে বিভিন্ন ক্যারেট স্বর্ণ আমদানির নাম করে গ্রাহকদের কাছে ভেজাল স্বর্ণ বিক্রি করছেন । এ নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ব্যবসায়ীদের সাথে গ্রাহকদের হরহামেসা দেন দরবার দেখা যায়। এছাড়া স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে সুদের ব্যবসা করে অনেকে রাতা-রাতি কোটি পতি হওয়ার আসায় মাত্র দুই-তিন বছরে অলংকার তৈরির কারিগর থেকে নিজেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী বনে যায়।অনেক অসহায় মানুষ টাকার প্রয়োজনে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা গ্রাহককে নিদিষ্ট সময় সীমা বেধে দেয়। আর নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহক সুদ-আসলসহ টাকা দিয়ে বন্ধকী স্বর্ণ ছাড়াতে না পারলে ব্যবসায়ীরা গ্রাহককে আর বন্ধকী স্বর্ণ ফেরৎ দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবার কিছু ব্যবসায়ী গ্রাহকের এ বন্ধকী স্বর্ণ অন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী (মহাজন) এর কাছে দিগুন টাকায় গ্রাহকের স্বর্ণ বন্ধক রেখে জমজমাট সুদের ব্যবসা করছে। গ্রাহক বন্ধকী স্বর্ণ ছাড়িয়ে নিতে এলে অসাধু ব্যবসায়িরা গ্রাহককে ভেজাল স্বর্ণ দেয়। এ ছাড়া এমনও ঘটনা রয়েছে যে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের কিছু অসাধু ব্যবসায়ি গ্রাম-গঞ্জের অসহায় মানুষের বন্ধকী স্বর্ণ হাতিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছে।রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণ বিক্রির সময় প্রতিটি স্বর্ণ ব্যবসায়ির মূল্য সংযোজন কর চালান বই থাকা বাধ্যতামুলক। স্বর্ণ ব্যবসায়িরা যে পরমিান টাকার স্বর্ণ বিক্রি করেন, সেই পরিমান টাকার উপর ক্রেতারা মূল্য সংযোজন কর প্রদান করলেও অসাধু স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সরকারের এ টাকা আত্মসাৎ করেন। মূল্য সংযোজন আইন অনুযায়ি, ব্যবসায়িরা সঠিক সময়ে সরকারকে কর পরিশোধ করল কিনা তা দেখভালের জন্য কর বিভাগের লোক থাকলেও দেখার কেউ নেই। ফলে সঠিক নজরদারীর অভাবে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হতে বি ত হচ্ছে।এসব স্বর্ণ দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।