তাজুল ইসলাম প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ধর্মপুরে ২০টি ও সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুরে ২০টিও সাহেবগঞ্জে ১০টি পয়েন্টে নির্বিচারে চলছে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে ড্রেজার শ্যালো মেশিন দিয়ে দিনে-রাতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন। প্রশাসনের কাছে অভিযোগের পর অভিযোগ দিয়েও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন। অবৈধ ভাবে নদী থেকে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বাড়ী ঘর,রাস্তাঘাট, বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ,ব্রীজ,স্মৃতি সৌধসহ ফসলী জমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ধর্মপুর ও সাপমারা ইউনিয়নে এসব পয়েন্টে ড্রেজার/স্কাভেটর দিয়ে চলছে অনাবরত বালু উত্তোলন ও ড্রাম ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন। এসব পয়েন্টে ড্রাম ট্রাক,ট্রাক্টরের সারি বদ্ধ ভাবে আনা নেয়ার লম্বা লাইন দেখে যে কারো মনে হবে যেন অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে। আর যত্রতত্র ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাস্তঘাট নষ্ট হয়ে বর্ষায় কাঁদা ও শুকনা মৌসমে ধুলায় চলাচলে অযোগ্য পড়েছে।একেক বালু দস্যূ বালু তুলে সড়কের পাশে পাহাড় পরিমান জমিয়েছেন বালু। অনেকেই এসব ধুলা বালির মধ্যে চলাচল করায় নানা ধরনের শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু নয় সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে বে-পরোয়া ভাবে ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচল করায় দুর্ঘটনাও ঘটছে।এব্যাপারে একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানিয়েছেন,অবৈধ ভাবে নদীর ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য রিট করা হয়।এমনকি মহামান্য হাই কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা অবৈধ বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না।অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এসব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধসহ ক্ষয়ক্ষতির দায় দায়িত্ব সেই প্রশাসনের কর্মকর্তাকেই নিতে হবে। কোন ভাবেই এই দায় এড়িয়ে যেতে পারবেন না। তবে দফায় দফায় ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগে সরেজমিন তদন্তপূর্বক বালুদস্যূদের তালিকা প্রশাসনের কাছে থাকলেও কেন বালুদস্যূরা আইনের আওতায় আসে না,বা ব্যর্থতা কার এমন প্রশ্ন জনমনে? গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাঈদ আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্থানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনও যেসব স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেসব স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।