সৈয়দ মিঠুন (ঘাটাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি হয়ে পাশের চারটি উপজেলার সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তাটির ১২ কিলোমিটারের উন্নয়নকাজ চলছে দেড় বছর ধরে। বাকি আছে মাত্র ৬৬৮ মিটার। সেই ৬৬৮ মিটারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি প্রায় অচল হয়ে আছে।

এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ সারা ঘর লেপে দুয়ারে কালি দিয়েছে।’

এ সড়কটি ঘাটাইলকে সাগরদীঘি হয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলা এবং টাঙ্গাইলের মধুপুর ও সখীপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। সাগরদীঘি থেকে রাস্তাগুলো এই চার উপজেলার দিকে মোড় নিয়েছে। এ কারণে রাস্তাটি সচল রাখার ক্ষেত্রে সাগরদীঘি চৌরাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির উন্নয়নকাজ প্রায় শেষ হলেও সাগরদীঘি চৌরাস্তার কাছে মাত্র ৬৬৮ মিটার নির্মাণকাজ বাকি আছে। তাই এ অংশটিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুসমান বৃষ্টির পানি জমে আছে।

সড়কের এ বেহাল দশার কারণে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো গর্তের মধ্যে গাড়ি আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় পাহাড়ি এলাকার কাঁঠাল, আনারসসহ বিভিন্ন ফল ও সবজির মতো পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়ছেন স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেও এ সমস্যার কোনো সমাধান পাননি। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ সারা ঘর লেপে দুয়ারে কালি দিয়েছে।’

আকন্দের বাইদের কলা ব্যবসায়ী কাদের ব্যাপারী বলেন, ‘এ পথে ট্রাকমালিকেরা মাল পরিবহন করতে চান না। ফলে বাড়তি ভাড়া দিয়ে আমাদের ট্রাক ভাড়া করতে হয়।’

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কামালপুর থেকে গুপ্তবৃন্দাবন পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছে। ইতিমধ্যে সড়কের প্রায় সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলেও সাগরদীঘি বাজারের চার রাস্তার মোড়ে ৬৬৮ মিটার সড়ক ঢালাইয়ের কাজ বাকি আছে।

ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ফকরুদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘সড়কের যে অংশের কাজ বাকি আছে, তা ঢালাইয়ের মাধ্যমে করতে হবে। এর জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ লাগবে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’

টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল হোসেন বলেন, ওই মোড়ের কাজ দরপত্র মোতাবেক পিচঢালাই করলে টিকবে না। সিসি ঢালাই করতে হবে। কিন্তু দরপত্রে সিসি ঢালাইয়ের কথা নেই। তাই সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।