সৈয়দ মিঠুন, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ৬৮টি। ইটভাটা মালিক সমিতি ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এ বছর ১৩টি ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১২টি ইট ভাটার। বাকি ৪৩টি ভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র এবং লাইসেন্স কোনোটিই নেই।

ফসলি জমি, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ইটভাটাগুলো। আইন অমান্য করে লাইসেন্স ছাড়াই এসব অবৈধ ইটভাটায় চলছে ইট পোড়ানোর কাজ। পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মেরামত করে পুনরায় চালু করছে ভাটা মালিকরা।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তত করা ও পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আইন অমান্য করলে ভাটা মালিককে ২ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। কিন্ত আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ভাটা মালিকরা ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, সরকারি বা ব্যক্তিগত বন, অভয়ারণ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন, বাগান বা জলাভ‚ মিতে ইটভাটা স্থাপন না করার বিধান রয়েছে। অথচ ঘাটাইল উপজেলার চানতারা, ধলাপাড়া, দেউলাবাড়ি, জামুরিয়া, সিংগুরিয়া, রসুলপুর, মোগলপাড়া এলাকার ইটভাটাসহ অধিকাংশ ইট ভাটাই স্থাপন করা হয়েছে কৃষিজমি, বন এলাকা, আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ টিম গত এক মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অর্ধকোটি টাকার বেশি জরিমানা আদায় করেছে। এ সময় তারা কয়েকটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয় এবং উচ্ছেদ করে।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রামামাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ৫০ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় একটি ভাটা উচ্ছেদ ও কয়েকটি ভাটার স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযান চলমান থাকবে।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, লাইসেন্সের জন্য অনেকেই আবেদন করেছেন। মালিকদের বললেও নানা ভোগান্তির কারণে তারা আগ্রহী হন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় তদন্তসাপেক্ষে জেলা প্রশাসন ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান করেন। অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।