মনোয়ার বাবু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে দেড় বছর বয়সে ধান সিদ্ধ করা চুলাতে পড়ে দুই হাত এবং মুখের কিছু অংশ পুড়ে যাওয়া মারুফ(৩০)(এলাকায় হাত পোড়া নামে পরিচিত) জন্মনিবন্ধনের কার্ড করতে বারান্দায় বারান্দায় ঘুরেছে দিনের পর দিন। কিন্তু যথাযথ কাগজ না থাকায় জনপ্রতিনিধিদের হাতে পায়ে ধরেও জন্মনিবন্ধন কার্ড করতে পারেনি সে। একই ভাবে উপজেলা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়েও ঘুরেছে পাগলের মত। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থতার দাগ নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

প্রবিন্ধীদেরকে পূর্ণবাসন এবং সহযোগীতায় সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিলেও, জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) এবং জন্মনিবন্ধনের বেড়াজালে কোন সরকারী সুবিধা ও সহযোগীতা পায়নি ৩০ বছর বয়সী হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী মারুফ। বয়স প্রমানে টিকারকার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন কাগজ না থাকায় করতে পারেনি জন্ম নিবন্ধনের কার্ড।

পরবর্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মারুফের আকুতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর কর্তিপক্ষের নজরে আসলে তখন তাঁরা মারুফ কে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেন এবং পরে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মারুফ কে ডেকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তিপক্ষের কাছে সকল কাগজ পত্র প্রদান করেন।অবশেষে রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে মারুফের হাতে ভোটার তালিকার অনলাইন কপি হস্তান্তর করেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহজাহান মানিক।এছাড়াও ভোটার তালিকার সূত্র ধরে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে মারুফের হাতে জন্মনিবন্ধন সনদ তুলে দিয়েছেন ঘোড়াঘাট পৌরসভার মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন।

সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মারুফ বলেন,যদিওবা দীর্ঘ ৩০ বছর পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছি তবুও আমি অনেক খুশি।এখন সরকারী সুযোগ সুবিধা গুলো যদি আমি পায় তবে কোন রকম বেঁচে থেকে জীবন কাটাতে পারবো।