মেহেরপুর অফিস : মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি), মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মেহেরপুর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত মরহুম ছহিউদ্দিন বিশ্বাসের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক সংখ্যা প্রকাশ, স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকালে ছহিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পুত্র জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সহকারি অধ্যাপক ফররুখ আহম্মেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সহকারি অধ্যাপক মাসুদ রেজা। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ছহিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একরামুল আজিম, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর হাসানুজ্জামান মালেক, সহিদ সাদেক হোসেন বাবুল, নাসের আহম্মেদ সহ কলেজের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, ছহিউদ্দিন বিশ্বাস ১৯২৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম ইয়াকুব হোসেন বিশ্বাস। দেশ বিভাগের পরপরই ছহিউদ্দিন বিশ্বাস মেহেরপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলার ভি.জে হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে মেট্রিকুলেশন পাশ করার পর রাজশাহী গভর্মেন্ট কলেজে ভর্তি হন, ২য় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় দেশ ও জাতির সেবা করার মহান ব্রত নিয়ে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। মেহেরপুর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম ছহিউদ্দীন বিশ্বাস ১৯৫৮ সালে মেহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৬৬ সালে পাকিস্থানী শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙালির মুক্তির সনদ ৬দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্থান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রথম জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরর অত্যন্ত আস্থাভাজন, ঘনিষ্ঠ সহচর, ছহিউদ্দীন বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার গঠন ও ১৭ এপ্রিল তৎকালীন বৈদ্যনাথ তলায় (বর্তমান মুজিবনগর) অনুষ্ঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ২য় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি গভর্ণর নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের নির্মম বুলেটে জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হবার পর বঙ্গবন্ধুর বোনের ছেলে শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নুর তাপসসহ তার পরিবারের জীবিত সদস্যদের ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে আসেন ছহিউদ্দীন বিশ্বাস। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর মেহেরপুর আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ৩য় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগপর্যন্ত সাধারণ মানুষের সেবা, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্নেহের ছহি এবং মেহেরপুরের গণমানুষের শ্রদ্ধাভাজন নেতা ও ভালবাসার প্রিয় ছহিউদ্দীন বিশ্বাস ১৯৯০ সালের আজকের এই দিনে সকল শ্রেণী পেশা এবং বিভিন্ন বয়সের মানুষকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চলতি বছর ছহিউদ্দীন বিশ্বাসকে সরকার দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করেন।