এস কে মুকুল, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ধুনট গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন সন্তানের জননী বিলকিছ বেগম (৫৫) কে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করার অভিযোগে সাদেক আলী ফকির (৬০) নামে এক স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর দুপুরে নিহতের ভাই মঞ্জুর আলমের দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার সাদেক আলী বাবু কালাই উপজেলার ধুনট গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, ধুনট গ্রামের সাদেক আলী বাবু ও তার স্ত্রী বিলকিছ বেগম হঠাৎ করেই সোমবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নিখোঁজ হয়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে বিলকিছ বেগমের মরদেহ বাড়ির পার্শ্বের একটি পুকুরে দেখতে পায়। পরে সেখানে সাদেক আলী বাবুর খোঁজ না পেলেও পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা থল এলাকা থেকে তাকে আটক করে।

স্থানীয় উদয়পুর ইউ’পি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে ঘাতক স্বামী সাদেক আলীর কঠিন শাস্তির দাবী করছি।

নিহতে বড় ছেলে বিল্পব হোসেন বলেন, আমরা দুই ভাই এক বোন। অনেক আগে থেকেই বাবা আমার মাকে নির্যাতন করে আসছে। রাতে মা এবং বাবা মিলে বাড়ির বাহিরে হাটতে যায়। এ সময় বাবা আমার মাকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আমার মা হত্যার সঠিক বিচার চাই।

মামলার বাদী নিহতের ভাই মঞ্জুরুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওদের বিচার শালিশ করতে করতে আমরা অতিষ্ট। অবশেষে আমার বোনকে সাদেক হত্যা করেই ছাড়ল। আমি সাদেককে আসামী করে মামলা করেছি। বোন হত্যার বিচার চাই।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সেলিম মালিক জানান, নিহতের ভাই মঞ্জুর আলমের দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হবে।