নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১ তম জন্মবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে আজ বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনও অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও আজ বুধবার (১৭ মার্চ) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর শিশু সমাবেশ এবং বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে থাকছে মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর মূল আয়োজন। এ উপলক্ষে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান বাংলাদেশে আসছেন। ঢাকায় পা রেখেই অতিথিরা যাবেন সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। আজ ঢাকায় এসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ। এরপর ১৯ মার্চ শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশে, ২২ মার্চ নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারি, ২৩ মার্চ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ও ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসবেন। এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে তাঁরা গাছের চারা রোপণ করবেন। স্বাক্ষর করবেন পরিদর্শন বইতে। স্মৃতিসৌধ এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আজ বুধবার (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এবার উদযাপিত হবে এ দিনটি। গত বছর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন থেকে শুরু হয় মুজিববর্ষ, যা এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হয়। এবারের জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর হৃদয় হোক রঙিন’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বছর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও করোনা ভাইরাসজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করে উদযাপিত হয়।