জাহিদুল ইসলাম, জামালপুর প্রতিনিধি চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের পানি হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে উপজেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের তান্ডবলীলা চলছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদের তীরবর্তী এলাকাবাসী। জুরুরী ভিত্তি ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার গোয়ালেচর ইউনিয়নের সভুকুড়া ও মোহাম্মদ গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গনের তান্ডবলীলা চলছে। স্থানীয় এলাকাবাসী রিপন,রফিকুল, মজর উদ্দিন ও মহিউদ্দিনসহ অনেকেই জানান, ব্রহ্মপুত্রের নদ হতে সম্প্রতি ড্রেজারে বালু তুলার ফলে এখন নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গন আরো বেশি হয়েছে।

মেলান্দহ শ্যামপুর ইউনিয়নের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী গোবিন্দি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা গত কয়েক বছরে ক্রমাগত ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে। বর্তমানে ভাঙন আরো বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদ-তীরবর্তী বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে বাড়িঘর ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকেই। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল ভাঙন রোধে দ্রুত প্রতিকার চেয়েছেন প্রশাসনের নিকট। তা না হলে ক্রমাগত ভাঙনে ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে পতিত হবে শত শত একর ফসলি জমি ও জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট। বাস্তুহারা হবে শতাধিক পরিবার।

ভাঙন কবলিত গৃহিণী মনোয়ারা বেগম বলেন,‘অনেকদিন যাবত আমাদের জমি জমা ও বাড়িঘর নদীয়ে ভাংতাছে। আমার ভাই ভাতিজারা চেয়ারম্যানকে জোড়হাত করে বললেও তারা কোন ব্যবস্থা নেই নাই।’ ভুক্তভোগী ফারুক বেপারী বলেন, নদীয়ে জমিজমা সব ভাইঙ্গা নিছে, শেষ সম্বল বাড়ির ভিটাও ভাঙতাছে। হাতে কোনো টাকা পয়সা নাই। বউ পোলা নিয়া আমি এহন যামু কই? খামু কি,স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, এইখানে ঈদগা মাঠে নামাজ পড়ছি। আসে পাশে কত কলার বাগান, কাঠের বাগান আছিল। চোখের সামনে সব নদী হইয়ে গেল।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশা করি অতি দ্রুত একটা সমাধান পাব।

এদিকে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সাইদ মুঠোফোনে জানান-পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন কবলিত এলাকা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।