বিশেষ প্রতিনিধি

ছাপার অক্ষরে পড়তে ছবিতে ক্লিক করুন

ঝিনাইদহে নিজের জামায়াত বিএনপি আত্মীয়-স্বজনকে কৃষকলীগের কমিটির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সার্টিফিকেট দিচ্ছেন কৃষকলীগের সাবেক উপদেষ্টা এড. আব্দুর রশীদ। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোন ২০১৮ সালের ১ মার্চ ঝিনাইদহ সদর পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে। এর পর তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। এড. আব্দুর রশীদ এর আগে ইউপি সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচন,ঝিনাইদহ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও কোন দিন পাস করতে পারেননি।
গত ইউপি নির্বাচনে মহারাজপুর ইউনিয়ন থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ রেখে তার আপন ভাগ্নে রেজাউল করিমকে নৌকার মনোনয়ন আনিয়ে দেন। কিন্তু বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে বিদ্রোহীর কাছে। তার সুপারিশে সদর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি তার আত্মীয় শফি উদ্দিন আহমদ মিন্টুকে ১ নং সাধুহাটি ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন হাতিয়ে আনেন, সেও বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছে। এড. আব্দুর রশীদ কৃষকলীগের উপদেষ্টার সুযোগ নিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজন দিয়ে দল চালাচ্ছেন। যার কারণে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে আওয়ামী লীগের অন্যতম এই সহযোগী সংগঠন।
তার নির্দেশে টাকার বিনিময়ে কালীগঞ্জ পৌর সভায় কৃষকলীগের সম্মেলনে বুজরুক মুন্দিয়া গ্রামের ঈমান আলী রাজাকারের ছেলে সেলিম রেজাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় সমালোচনার ঝড় চলছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান তোতা একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় ৩ মার্চ থেকে ঝিনাইদহ কারাগারে রয়েছেন। অথচ তাকে বাদ রেখেই একের পর এক ইউনিয়নে সম্মেলন করে যাচ্ছেন এড. রশীদের চাপে। গত ৭ মার্চ গান্না ইউনিয়ন কৃষকলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে। এই সম্মেলনে আগে থেকেই পাতানো প্রার্থী শাহাদত হোসেনকে সভাপতি হিসাবে অনুমোদন দিয়েছে সদর উপজেলা কৃষক লীগ। এই বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি শফি উদ্দিন আহমেদ মিন্টু বলেন, এই শাহাদত উকিল সাহেবের ভাইরাপো জামাই। তাকে নেতা বানাতেই হবে। এইটা বাদে অন্য পদে পরিবর্তন হতে পারে। অথচ সম্মেলনের মাঠে দাবি ওঠে অন্য প্রার্থীকে সভাপতি করার। মঙ্গলবার রাতে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সোম একটি সূত্রে প্রকাশ করেন সাধারণ সম্পাদককে ব্যতিরেকেই গান্না ইউনিয়ন কমিটির অনুমোদন করা হয়েছে। এদিকে গত ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে কাজ না করে বরং বিদ্রোহীদের উষ্কে দিয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন সদর উপজেলার গান্না, কুমড়াবাড়িয়া, মধুহাটি, হরিশংকরপুর, পদ্মকর, দোগাছি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। নৌকার পক্ষে মাত্র ৪টি ইউনিয়নে ছাড়া প্রচারণায়ও নামেননি তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষকলীগের একাধীক নেতা জানিয়েছেন, ঝিনাইদহ কৃষকলীগ এড. আব্দুর রশীদের কাছে জিম্মি। তিনি নিজের আত্মীয় স্বজন ছাড়াও টাকার বিনিময়ে কৃষকলীগের পদ বিক্রি করছেন রাজাকার পুত্র, জামায়াতের কর্মীদের কাছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ মোঃ ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, তিনি মহারাজপুর থেকে কয়েক বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু রশীদ উকিল তাকে সন্ত্রাসী তিতাসকে দিয়ে ভোট কাটিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক ফেল করায়। জাতীয় পার্টির নেতা ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র মোশাররফ হোসেন মশার সাথে রাজনীতির লিঁয়াজো রাজনীতি করতেন বলে এলাকায় শ্রুতি রয়েছে। তিনি এখন একই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, কৃষকলীগের উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি দাবি করেন।