রাজিবুল হক রনিঃ ২০১৬ সনের ১৪ মার্চ নােয়াখালীর সােনাইমুড়িতে মিথ্যা গুজব রটিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা, বাড়িঘর লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এবং হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক, শিল্পভিত্তিক ও শিক্ষামূলক উন্নয়ন প্রকল্পগুলাের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে রবিবার বেলা ৩.০০ ঘটিকায় ঢাকা রিপাের্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। এতে মূল বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের ঢাকা মহানগর সভাপতি ডাঃ মাহবুব আলম মাহফুজ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাকীব আল হাসান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, “গত ২৬ বছরে একটি ধর্মব্যবসায়ী উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গােষ্ঠী হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপর ৪০০ বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পৈশাচিক হামলাটি হয় ২০১৬ সালের ১৪ই মার্চ।সেদিন হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়িতে নির্মাণাধীন মসজিদকে গির্জা বলে গুজব রটিয়ে ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণি ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে। দিনভর চলে হামলা, জ্বালাও পােড়াও, রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ড। হেযবুত তওহীদের দুজন সদস্যকে হত্যা করে পেট্রোল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।”

তিনি অভিযােগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের বিচার হয়নি। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকা বহু আসামী স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলাের আশ্রয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। আর সেই সুযােগ নিয়ে ধর্মব্যবসায়ী গােষ্ঠী ও কুচক্রী মহল পুনরায় হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়িতে হামলার ষড়যন্ত্র করছে।

সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের এমামের বাড়িতে হামলার সাথে জড়িত সকল হামলাকারীর দৃষ্টান্তনীয় বিচার নিশ্চিত করা, বর্তমানে যারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হ্যান্ডবিল বিতরণ করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা,হেযবুত তওহীদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলাের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ওয়াজ মাহফিলগুলােতে যারা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা, হামলার হুমকির মুখে থাক”হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘর, কৃষি প্রকল্প, কার্যালয় ও ব্যবসা-বাণিজোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্মব্যবসা সাম্প্রদায়িকতা, অপরাজনীতি, মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ইত্যাদির বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের অনুষ্ঠানগুলোর যথায”নিরাপত্তা প্রদান করা এবং হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে যারা অনলাইনে হত্যার হুমকি, ছবিবিকৃতিসহ নানাবিধ সাইবার ক্রাইম করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবিসহ মােট ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

১. ২০১৬ সালের ১৪ই মার্চে নােয়াখালীর সােনাইমুড়ী উপজেলার তামীরহাটের পােৱকরা গ্রামে মিম্যা গুজব রটিয়ে সেলুত তওহীদের মাননীয় এমামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রকাশ্য দিবালােকে দুইজনকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে যারা জড়িত ছিল ও পরােক্ষভাবে যারা ইন্ধন যুগিয়েছিল তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা হলে সেটাকে বিচারহীনতারই নামান্তর মনে করা হয়। কাজেই বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা যেন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সরকারের পদক্ষেপ আশা করি।

৩. হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, গ্রেফতারও করা হয়নি, কিন্তু এখন তাদের নাম, ঠিকানা ও হামলায় জড়িত থাকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বেরিয়ে আসছে। এই হামলাকারীদেরকেও দ্রুত গ্রেফতার করে সম্পূরক অভিযােগপত্রের মাধ্যমে বা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৪. উগ্রবাদী সন্ত্রাসী ও ধর্মব্যবসায়ী গােষ্ঠী আবারও মিথ্যা হ্যান্ডবিল রচনা করে বিভিন্ন মসজিদে, মাদ্রাসায়, রাস্তাঘাটে, দোকানে বিতরণ করছে এবং যেটা আমরা বলিনি, করিনি, যেটা আমাদের আকিদা নয়, বিশ্বাস নয়, সেগুলোকে আমাদের উপর আরােপ করছে। তারা চাচ্ছে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে। মিথ্যা হ্যান্ডবিল রটিয়ে এহেন অপপ্রচারের সাথে জড়িতদেরকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

৫. ধর্মব্যবসায়ী ও উগ্রবাদী সন্তাসীদের হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া মাননীয় এমামের বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে আমরা পুনরায় যেই উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তুলেছি, সেই উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে থাকা স্থাপনাগুলাে যেমন- স্কুল, মসজিদ, মক্তব, গবাদি পশুর খামার, বিভিন্ন ধরনের শিল্প কারখানা, কুটির শিল্প ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলাের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে চাষীরহাট বাজারে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

৬. মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে অতীতে কীভাবে জাতিবিনাশী ঘটনা ঘটানাে হয়েছে, গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে নির্দোষ মানুষের জান মালের ক্ষতি করা হয়েছে ও হত্যাকাণ্ড ঘটানাে হয়েছে তা গণমাধ্যমকর্মীদের অজানা নয়। এই গুজব সৃষ্টিকারী ও অপপ্রচারকারী গােষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আরও সােচ্চার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

৭. সারা দেশ থেকে আমাদের হাতে আসা তথ্যমতে, শুধু গত এক মাসেই দেশের অন্তত শতাধিক জায়গায় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ওয়াজ মাহফিলে বা জুমার খুতবায় বা অনলাইনে মিথ্যা ওয়াজ করা হয়েছে এবং আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলাে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাজেই দেশজুড়ে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের আবাসস্থল, কার্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

৮. যে সমস্ত তাত্ত্বিক গুরু বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরত্বপূর্ণ পদ-পদবী ব্যবহার করে ওয়াজের নামে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে, গুজব রটাচ্ছে ও হামলার উসকানি দিচ্ছে, তাদেরকে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে তাদের আপলোড করা বক্তব্যগুলাে দেখে, তাদের অন্ধ অনুসারীরা প্রভাবিত হয়ে বহু বেআইনী ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে । যেমন জঙ্গিবাদী হামলা, ভাস্কর্য ভাঙচুর ইত্যাদি ঘটনার কথা স্মরণ করা যেতে পারে।

১৯. দেশের আইনমান্যকারী নাগরিক হিসাবে আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তথাপি ধর্মব্যবসায়ী গােষ্ঠীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে বারবার আমাদের উপর হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানাে হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করছি যে, পুনরায় আমাদের বাড়িঘরে, উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে হামলা চালানাের হুমকি প্রকাশ্যে প্রদান করা হচ্ছে। যদি আবারও তারা আক্রমণ করে, তাহলে প্রশাসনিক নিরাপত্তার পাশাপাশি কার্যবিধিতে উল্লেখিত আত্মরক্ষার ধারা মােতাবেক আত্মরক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে। আমাদের সেই আত্মরক্ষার অধিকার সুস্পষ্টভাবে বলবৎ করতে হবে।

১০, ধর্মব্যবসা, সাম্প্রদায়িকতা, অপরাজনীতি, মাদক, হুজুগ, গুজব, জঙ্গিবাদ ইত্যাদির বিরুদ্ধে সারাদেশে হেযবুত তওহীদ যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেই অনুষ্ঠানগুলাের নিরাপত্তা প্রদান করতে হবে।

১১. সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যম ব্যবহার করে হেযবুত তওহীদের এমাম ও সদস্যদের ছবি এডিট ও বিকৃত করে অপপ্রচার চালানাে হচ্ছে, মিথ্যা গুজব রটানাে হচ্ছে, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। যারা নামে-বেনামে বিভিন্ন আইডি খুলে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।