নোয়াখালী সংবাদদাতা: পড়াশুনা অষ্টম শ্রেণির গন্ডি পেরোনের আগেই দারিদ্রতা পেটের ক্ষিধা নিবারনের জন্য কাজ নেয় নির্মান শ্রমিকের হেলপার হিসেবে। স্থানীয় এক সাংবাদিকের বাড়ীতে রাজমিস্ত্রীরর যোগালীর কাজ করতে গিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামের ডাক পিয়ন বাড়ীর নিখোঁজ সিলেটি আব্দুল মতিনের ছেলে খোরশেদ আলম প্রকাশ জ্বালী খুইশ্যার। কথার ছলে শিখে নেয় সাংবাদিকতার নানন কৌশল। এর পর থেকে আর পিছু ফিরতে হয়নী জ্বালী খুইশ্যার।

সোনাইমুড়ীর স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিনের হাত ধরে সাংবাদিকদের বিস্কুট পরিবেশন, প্রেসক্লাব ঘর ঝাড়– দেওয়ার চাকুরি নেয় প্রথমে। এর পরে স্থানীয় কম্পিউটার দোকান থেকে বানিয়ে নেয় এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষ সনদ।

স্থানীয় একটি অনিয়মিত দৈনিক পত্রিকায় টুকি টাকি রিপোর্ট করে শুরু করে মানুষের সাথে প্রতারণা। গত ১/১১ সরকারের সময়ে দুরন্ধর জ্বালী খুইশ্যা সাধারণ চাকুরি জীবি ব্যবসায়ী ইউপি চেয়ারম্যান সহ নানন পেশার মানুষকে নেগেটিভ সংবাদ পরিবেশনের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে হাতিয়ে নিতে থাকে টাকা। এতিম জ্বালী খুইশ্যা নানার বাড়ীতে মায়ের অংশে পাওয়া ঘর ভিটায় কুড়ে ঘর থেকে ইটে গাঁথুনি দিয়ে নির্মান করে পাকা দালান।

এলাকাবাসী জানায়, বজরায় অবস্থিত সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের সামনে সিএনবি সড়কের পাশে ঘরের মিনি পতিতালের সর্দারিনী মনি মালার ঘরে নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল তার। সেখান থেকে আদায় করতো নিয়মিত মাসোয়ারা। এলাকার স্থানীয় বখে যাওয়া যুবকদেরকে নিয়ে গড়ে তোলে মাদকের সম্রজ্য। বজরা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিস্তার ঘটাতে থাকে থাকে তার সাম্রাজ্যের। থানায় নিয়েমিত মাসোয়ারা দিয়ে নির্বিঘ্নে চালাতে থাকে মাদকের বাজার। থানায় নতুন ওসি যোগ দান করলে প্রথমে ফুলে তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিক বরণ করে নেওয়ার পরে অবৈধ টাকার লেনদেন শুরু করে এই মাদক সম্রাট জ্বালী খুইশ্যা।

এলাকার কেউ মুখ খুললেই থানায় মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে তার নুন নিমুক খাওয়া পুলিশ সদস্যদেরকে দিয়ে থানায় আটক করে এনে নির্যাতন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বজরা দিঘির জান এলাকার এক ব্যাবসায়ী জানায় জ্বালী খুইশ্যার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় গত কয়েক বছরে রয়েছে চাঁদা বাজীর শতাধিক অভিযোগ। তার মাদক কারবারে কেউ বাধার সৃষ্টি হলে পুলিশি হয়রানী শুরু হয়। তার অধিনে বজরা ইউনিয়নে অন্তত দুইশর বেশী মাদক কারবারী। সোনাইমুড়ী থানার বর্তমান ওসি গিয়াস উদ্দিনের সাথে রয়েছে বিশেষ সখ্যতা। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত যতক্ষন ওসি থানায় থাকবে ততক্ষন জ্বালী খুইশ্যার ইচ্ছা অনিচ্ছায় ধরা কিংবা ছাড়া হবে আসামী।

দুন্ধর জ্বালী খুইশ্যা জ্বাল শিক্ষা সনদ দিয়ে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পায়। পরে কর্তৃপক্ষের হাতে জ্বাল শিক্ষা সনদ ধরা পড়ার পরে ঠিকানা মোতাবেক বজরা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাইমুড়ী সরকারী ডিগ্রি কলেজে তদন্ত করে উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান তার শিক্ষা সনদ জ্বাল বলে প্রত্যয়ন দেয়। যুগান্তর কর্তৃপক্ষ তাকে পুলিশে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিলে হাতে পায়ে ধরে জীবনে আর সাংবাদিকতা করবেনা বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুছলেকায় স্বাক্ষর করে কোন মতে রক্ষা পায়।

একই ভাবে দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার অসাধু ব্যাক্তিদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি হিসেবে কার্ড সংগ্রহ করে সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষা সনদ জালিয়াতি করে প্রতারণার দায়ে তার বিরুদ্ধে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফের ছেলে সৈয়দ সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দুদকে একটি অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এছাড়া একি অভিযোগে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে আরেকটি অভিযোগ দিলে সেটিও সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তমুলক ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়। অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে উপজেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়।

অভিযোগ রয়েছে জ্বালী খুইশ্যা সোনাইমুড়ী পৌর ভূমি তহশিল অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল মতিনের নিকট চাঁদার দাবী করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা খাতুন ২০১৮ ইং সালে ১১১ নং স্মারকে সোনাইমুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত কারনে ঐ মামলা টি পুলিশ ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এছাড়া ছনগাঁও গ্রামের বিবি কুলসুম নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আরেকটি মামলা করে।

আর এ বিষয়ে জ্বালী খুইশ্যার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।